বইমেলা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটিয়ে অবশেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বাংলা একাডেমি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথা ভেঙে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে মেলা। চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। রেওয়াজ অনুযায়ী, একুশে বইমেলা উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান। সেভাবেই প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে ঈদের পর মেলার আয়োজন করার দাবি জানিয়েছে তিন শতাধিক প্রকাশকদের প্ল্যাটফর্ম ‘প্রকাশক ঐক্য’।
এ বিষয়ে তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ চেয়েছে প্ল্যাটফর্মটি।
‘প্রকাশক ঐক্য’ মূলত সোশ্যাল মিডিয়াগ্রুপ। এর অন্যতম সদস্য আহমদ প্রকাশনীর মেজবাহ উদ্দিন ও অন্যপ্রকাশের মাজহারুল ইসলাম।
প্রকাশকদের এই দাবির মুখেও নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল বাংলা একাডেমি। তবে প্রকাশকদের সুবিধার্থে বইমেলায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রকাশকদের স্টল ভাড়া ৫৫ শতাংশ মওকুফ করেছে সরকার। মেলায় অংশ নিতে প্রায় ৩৫০ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ৫১৫ ইউনিট স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বাংলা একাডেমি বলছে, সাধারণত ১ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হলেও এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং পবিত্র রমজান মাসের বাস্তবতায় এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্বাচনের কারণে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে মেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি এবং রমজানে পাঠক সমাগম কমার আশঙ্কায় মেলার সময় ২৫ দিনে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
বাংলা একাডেমির সচিব ও মেলা কমিটির সদস্য সচিব মো. সেলিম রেজা ডেইলি স্টারকে বলেন, প্রকাশকরা ঈদুল ফিতরের পর বইমেলা আয়োজনের যে দাবি জানিয়েছেন, তার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত মোতাবেক বইমেলা শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকাশকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের তুলনায় স্টল ভাড়াও কমানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বইমেলা আয়োজনের কাজ যখন প্রায় ৮০ ভাগ সম্পন্ন, এই সময় এসে ঈদের পর বইমেলা আয়োজন করার জন্য প্রস্তাব অবাস্তব। তাছাড়া রোজা-ঈদের পর এপ্রিল মাস আসবে। এপ্রিল মাসে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ থাকে। ধুলোবালির উপদ্রব বাড়ে। কালবৈশাখীসহ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা থাকে প্রবল। এ সময় মাসব্যাপী বইমেলার আয়োজন করা বাস্তবসম্মত নয়।
মেলায় অংশ নিচ্ছে সূচীপত্র প্রকাশনীর প্রকাশক সাঈদ বারী। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি বইমেলাকেন্দ্রিক নই, কিন্তু সার্বিকভাবে বইয়ের বাজার খুবই সীমিত হওয়ায় অধিকাংশ প্রকাশক বইমেলাকেন্দ্রিক প্রকাশনায় অভ্যস্ত। ফেব্রুয়ারি মাসেই বইমেলা করা উচিত। পরে মেলা করার মানে হয় না। তাছাড়া রমজানের পর বইমেলা করার মতো পরিস্থিতি হবে না। তাপপ্রবাহ এত তীব্র থাকবে যে আনন্দের মেলা হবে না।
পুঁথিপ্রকাশের পরিচালক সুজন বিশ্বাস বলেন, আমি নবীন প্রকাশক, মেলা যখনই হয় অংশ নেব। আমাদের মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য আগে কিংবা পরের আয়োজন খুব বেশি অসুবিধার না। তবে বইমেলা ফেব্রুয়ারিতে হলে ভালো লাগা বেশি কাজ করে।
গত ২ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেন, ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি (বাপুস) এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রকাশকের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবারের বইমেলা পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর আয়োজনের ঘোষণা দিতে হবে। এ ছাড়া প্রকাশকদের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় স্টল ভাড়া মওকুফ ও সরকারি খরচে স্টলের সম্পূর্ণ কাঠামো তৈরি করে দেওয়ার দাবি জানান প্রকাশকেরা।
কথাসাহিত্যিক আহমাদ মোস্তফা কামাল ডেইলি স্টারকে বলেন, যদি ২০ তারিখে মেলা করতেই হয়, তাহলে সব প্রকাশককে নিয়ে করুন। তাদের সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করুন। নাহলে পিছিয়ে দেন। প্রকাশকরাও একটু ছাড় দেওয়ার চেষ্টা করুন। আগামী কয়েক বছর কিন্তু মেলা রোজার সময়ই করতে হবে। সেগুলো কীভাবে করবেন, সেই পরিকল্পনা আপনারাই হাজির করুন। সব পক্ষ নমনীয় হন। এত জেদাজেদির কোনো কারণ দেখি না।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, বইমেলা আয়োজন করে বাংলা একাডেমি, আমরা সহযোগিতা করি। মেলা নিয়ে একাডেমি সব দিকে বিবেচনা করে রেওয়াজ অনুযায়ী একুশে বইমেলা উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান। সেভাবেই আমাদের প্রস্তুতি চলছে।