১১ বছর পর সেই মঞ্চে, নতুন গার্ডে রিজওয়ান

Date:

ক্রিকেটে কোনো ব্যাটার মাইলফলক স্পর্শ করার পর উদযাপন করা একেবারেই স্বাভাবিক ব্যাপার, হোক তা হাফসেঞ্চুরি, সেঞ্চুরি কিংবা আরও পঞ্চাশ রান যোগ করা; প্রায় সব ব্যাটারই তা করে থাকে।

কেউ আনন্দে লাফিয়ে ওঠেন, কেউ শান্তভাবে ব্যাট তুলে সতীর্থ ও সমর্থকদের অভিবাদন জানান। কেউ কেউ সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, আবার কেউ কৃতজ্ঞতায় আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকেন।

তবে এমন কিছু খেলোয়াড়ও আছেন, যারা উদযাপনের পর নতুন করে গার্ড নেন, এক ধরনের মানসিক অনুশীলন হিসেবে, যাতে স্নায়ুচাপ কমে এবং যেন তারা নতুন করে তাদের ইনিংস শুরু করতে পারেন।

এক অর্থে প্রতীকীভাবেই পাকিস্তানের উইকেটকিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রেও সেটাই করতে যাচ্ছেন। প্রায় ১১ বছর আগে যে ভেন্যুতে এবং যে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তিনি এই সংস্করণে যাত্রা শুরু করেছিলেন, সেখানেই তিনি খেলতে যাচ্ছেন তার ১০১তম ওয়ানডে।

রিজওয়ান পাকিস্তানের হয়ে ওয়ানডে অভিষেক করেছিলেন ২০১৫ সালের ১৭ এপ্রিল, ঢাকার শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে।

সেই সিরিজটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে। কারণ টাইগাররা সিরিজটি ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিল এবং সেটিই ছিল ঘরের মাঠে টানা তিনটি সিরিজ জয়ের সূচনা, যার মধ্যে ছিল ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়ও।

আশ্চর্যের বিষয়, এরপর থেকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান আর কোনো দ্বিপাক্ষিক ৫০ ওভারের সিরিজ খেলেনি। গত ১১ বছরে এই সংস্করণে তারা মুখোমুখি হয়েছে মাত্র চারবার, তাও বহুদলীয় টুর্নামেন্টে।

এই একই সময়ে পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে নয়টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে, যদিও দুই দেশের মধ্যে কোনো দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সম্পর্ক নেই, যা বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি।

এমন নয় যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একেবারেই ছিল না। এই সময়ে বাংলাদেশ চারবার পাকিস্তান সফর করেছে এবং পাকিস্তান দুবার বাংলাদেশ সফর করেছে। তবে সেগুলো ছিল কেবল টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য, যা হয়তো নিছক কাকতালীয়, কিংবা ওয়ানডে ফরম্যাটের ক্রমহ্রাসমান গুরুত্বের একটি ইঙ্গিত।

২০১৫ সালের সেই সিরিজে বাংলাদেশ ছিল উত্থানমুখী একটি দল। এর আগেই ওই বছর বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সাফল্যে দলটি ছিল আত্মবিশ্বাসে ভরপুর, আর ‘পঞ্চপাণ্ডব’ তখন নিজেদের শীর্ষ সময়ে। অন্যদিকে পাকিস্তান তখন ছিল পুনর্গঠনের পথে।

ম্যাচগুলো ছিল একপেশে, যেখানে তামিম ইকবাল দুটি সেঞ্চুরি ও একটি হাফসেঞ্চুরি করে সিরিজটিকে যেন নিজের করে নিয়েছিলেন।

কপালের খেলাই যেন, পাকিস্তান এখন আবারও এক ধরনের পুনর্গঠনের মধ্যেই আছে বলে মনে হচ্ছে। ১৫ সদস্যের দলে সুযোগ পেয়েছেন ছয়জন অনভিষিক্ত খেলোয়াড় এবং অভিজ্ঞ বাবর আজমকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ আর সেই সুসংগঠিত দলটি নেই, যা একসময় ৫০ ওভারের ফরম্যাটে ছিল। মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন দলটি ওয়ানডে দল হিসেবে তাদের স্বকীয়তা হারিয়েছে এবং আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখতে তারা আবার ছন্দ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে।

এখন অভিজ্ঞ এক যোদ্ধা হয়ে ওঠা রিজওয়ান রোববার ভোরের দিকে অন্যান্য পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে ঢাকায় পৌঁছেছেন।

সম্ভবত সিরিজের কোনো এক ম্যাচে তিনি তার ১০১তম ওয়ানডেতে গার্ড নেবেন। আর আশা করা যায়, বাংলাদেশ–পাকিস্তানের আরেকটি ৫০ ওভারের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে তাকে যেন ২০১তম ওয়ানডে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে না হয়।
 

Popular

More like this
Related

ফাঁদ নয়, ভিন্ন পদ্ধতিতে খেত থেকে পাখি তাড়াচ্ছেন কৃষক

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ফাঁদ না পেতে ভিন্ন পদ্ধতিতে খেত থেকে...

যে কারণে ওয়ানডেতে পাঁচে খেলবেন লিটন

বাকি দুই সংস্করণে নিয়মিত রান পেলেও ওয়ানডেতে বেশ বিবর্ণ...

আইসিটিতে ২ নতুন প্রসিকিউটর নিয়োগ, একজনের পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) দুইজন নতুন প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছে...

উজবেকিস্তানের কাছে বড় হারে এশিয়ান কাপ শেষ বাংলাদেশের

এএফসি নারী এশিয়ান কাপে নিজেদের অভিষেক আসর কোনো জয়...