হরমুজ প্রণালিকে ‘স্ট্রেইট অব ট্রাম্প’ উল্লেখ করে ‘দুঃখিত’ বললেন ট্রাম্প

Date:

হরমুজ প্রণালিকে ‘স্ট্রেইট অব ট্রাম্প’ হিসেবে উল্লেখ করে আবার দুঃখিত বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক অনুষ্ঠানে চোখ টিপে ট্রাম্পের এমন মন্তব্য উপস্থিত অতিথিদের হাসালেও বিষয়টির গভীরতা অনেক।

ট্রাম্প যে রসিকতার ছলে স্ট্রেইট অব হরমুজকে ‘স্ট্রেইট অব ট্রাম্প’ বলে উল্লেখ করেছেন, তা পরের বক্তব্যেই স্পষ্ট করেন।

ক্ষমা চাওয়ার ভান করে ট্রাম্প তখন বলেন, ‘মাফ করবেন। আমি খুবই দুঃখিত। কী ভয়ানক একটা ভুল! ভুয়া সংবাদমাধ্যম বলবে, তিনি ভুলবশত বলে ফেলেছেন।’

নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে এ সময় ট্রাম্প দাবি করেন, তার তেমন কোনো ভুল হয় না। আর যদি হতো তাহলে সেটা বড় খবর হয়ে যেত বলে উল্লেখ করেন।

আজ শনিবার সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব তথ্য।

গতকাল শুক্রবার ফ্লোরিডার মিয়ামিতে ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হরমুজ প্রণালিকে নিজের নামে উল্লেখ করে আসলে কতটা রসিকতা করেছেন তা নিয়ে ভাবার সুযোগ আছে।

নিজের নামকে ব্র্যান্ড হিসেবে ব্যবহারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ট্রাম্পের এ ধরনের মন্তব্যকে খোদ তার দেশেরই অনেক গণমাধ্যম গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।

আজ শনিবার নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং সেটির নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে বা ‘স্ট্রেইট অব আমেরিকা’ রাখার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

এর আগে, গত অক্টোবরে ট্রাম্প তার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ওয়াশিংটনের জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসকে মজা করে নিজের নামের সঙ্গে মিলিয়ে উল্লেখ করেছিলেন।

পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘নতুন ট্রাম্প কেনেডি—ওহ, বলতে চাচ্ছি কেনেডি সেন্টার।’

দুই মাস পরই ডিসেম্বরে হোয়াইট হাউস জানায়, কেনেডি সেন্টার বোর্ড তাদের নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প-কেনেডি সেন্টার’ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এছাড়া ট্রাম্প মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রাখারও প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যুদ্ধের এক মাস পার হওয়ার এই সময়ে সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা চালিয়ে ইরানের সামরিক শক্তি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি জানালেও তেহরান কার্যত এখনো প্রণালিটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হয়। প্রণালিটি অবরুদ্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

যদিও ট্রাম্প যুদ্ধের সমাধান হিসেবে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার সঙ্গে যৌথভাবে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার দাবি অস্বীকার করেছে তেহরান।

Popular

More like this
Related

নেতাকর্মীদের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের নেতাকর্মীদের দেশের...

সৌদি আরবের পাইপলাইনে দিনে ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন

হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইন বর্তমানে পূর্ণ...

মধ্যপ্রাচ্যে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা চুক্তি, ইরানকে উন্নত ড্রোন দিচ্ছে রাশিয়া

মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে ইতোমধ্যে ১০ বছর...

একদুয়ারিয়ার গ্রামীণ সৌন্দর্যে মুগ্ধ বিদেশি পর্যটকরা

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার একদুয়ারিয়া গ্রামে গত তিন বছরে অন্তত...