স্বৈরতন্ত্র চিরকাল থাকে না, কিন্তু সাহিত্য টিকে যায়। সাহিত্যের জন্মের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধের প্রসঙ্গও আসে। বলা ভালো, সমাজ-সাংস্কৃতিক ক্রিয়াশীলতা থেকে জন্ম নেয় প্রতিবাদী সাহিত্য।
মিলান কুন্দেরা তার ‘দ্য বুক অব লাফটার অ্যান্ড ফরগেটিং’ (১৯৭৯) গ্রন্থে বলেন, “শক্তির বিরুদ্ধে মানুষের লড়াই হলো বিস্মৃতির বিরুদ্ধে স্মৃতির লড়াই”। রাজনৈতিক স্মৃতি-বিস্মৃতি এবং ইতিহাসের ওপর ক্ষমতার আধিপত্য বিষয়ে তার ইঙ্গিত সুস্পষ্ট। তিনি দেখান যে, স্বৈরাচারী শাসনের অস্ত্র কেবল রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন নয়, ইতিহাস ও গণস্মৃতিকে মুছে ফেলা। এই ‘বিস্মৃতি’র রাজনীতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে সাহিত্যিকরা ‘বিকল্প আর্কাইভ’ বা স্মৃতির দুর্গ তৈরি করেন।
কাজী নজরুল ইসলাম, আবুল মনসুর আহমদ, ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ, হাবিব জালিব (পাকিস্তানি বিপ্লবী কবি), সুকান্ত ভট্টাচার্য, আল মাহমুদ, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, ফাহমিদা রিয়াজ, অবতার সিং সান্ধু (পশ), শহীদুল জহির, অমিতাভ ঘোষ, অরুন্ধতী রায়— তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ সাহিত্যে স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে ও প্রতিরোধের পক্ষে অগ্নিঝরা বক্তব্য রেখেছেন। তাদের লেখায় মানবিক সংহতি ও লেখকের স্মৃতি হয়ে ওঠে রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপের চেয়ে শক্তিশালী। কারণ যতক্ষণ একজন লেখক সত্য উচ্চারণ করছেন, ততক্ষণ স্বৈরতন্ত্রের জয় অসম্পূর্ণ।
সাহিত্য কেবল সময়ের দর্পণ নয়, ভবিষ্যতের এক শাশ্বত রূপরেখাও। এই দায়বদ্ধতা থেকেই সাহিত্যিককে দাঁড়াতে হয় রূঢ় সত্যের মুখোমুখি। এ প্রসঙ্গে আন্তোনিও গ্রামশির সেই কালজয়ী দর্শন—‘বুদ্ধিবৃত্তিক নিরাশাবাদ’ ও ‘ইচ্ছাশক্তির আশাবাদ’—প্রতিকূল সময়ে পাঞ্জেরির মতো পথ দেখায়।
বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থানে একজন লেখক আমূল বাস্তববাদী; তার নির্মোহ বিশ্লেষণে শাসকের দোর্দণ্ড প্রতাপ, বর্তমানের ভয়াবহতা কিংবা পরিবর্তনের কণ্টকিত পথ বিন্দুমাত্র আড়াল হয় না। বুদ্ধির নিরিখে পরিস্থিতির অন্ধকারটাই হয়তো আগে চোখে পড়ে, যাকে আমরা বলতে পারি এক ধরনের যৌক্তিক নিরাশাবাদ। কিন্তু এই অন্ধকারের বিপরীতে লেখককে হতে হয় অদম্য ইচ্ছাশক্তির অধিকারী।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা জেনেও তা পরিবর্তনের জন্য নৈতিক জেদ জরুরি। এটাই হয়তো লেখক জীবনের প্রকৃত সক্রিয়তা। যখন চারপাশ নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে নিমজ্জিত, তখন তাদেরকে গহিন অরণ্য পাড়ি দেওয়ার সাহস রাখতে হয়। এক নতুন ভোরের স্বপ্ন জিইয়ে রাখতে হয় লেখককে।
স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াকু সাহিত্যিকরা সমাজ ও রাজনীতির পচনকে বুদ্ধি দিয়ে ব্যবচ্ছেদ করেন, অথচ কলমের খোঁচায় মানুষের মনে জাগিয়ে রাখেন পরিবর্তনের দুর্মর আকাঙ্ক্ষা। নিরাশার পারাবারে দাঁড়িয়ে আশার আলোকবর্তিকা জ্বালিয়ে রাখাই হলো ‘পথ-দেখানিয়া’ সাহিত্যিক আশাবাদ।
উপমহাদেশের ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা কত শত উত্থান-পতনের ঘটনা দেখি। কেবল রাজবংশের উত্থান-পতন নয়, শোষকের বিরুদ্ধে শোষিতের অবিরাম লড়াইয়ের ইতিহাস আমাদের সামনে আসে। যখনই রাষ্ট্রের শাসনযন্ত্র স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছে, তখনই কবি-সাহিত্যিকরা তাদের কলমকে প্রতিরোধের দুর্গে পরিণত করেছেন। স্বৈরতন্ত্র বারবার তাদেরকে বন্দুকের নলের মুখোমুখি করেছে, ‘বিস্মৃতি’র মধ্য দিয়ে ক্ষমতার নতুন বয়ান তৈরির চেষ্টা করেছে। কারণ ইতিহাসকে বেমালুম মুছে দিতে পারলে স্বৈরশাসকের ব্যাপক লাভ। তারা মানুষের দগদগে স্মৃতিকে ধুয়ে-মুছে সাফ করে দিতে চায়। এমনকি দিনকে দিন ঘটে যাওয়া অপরাধকেও স্বাভাবিক করে তোলার অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যায়। ঠিক এই জায়গাতেই শুরু হয় সাহিত্যিকের লড়াই।
স্বৈরতন্ত্র মানুষের শরীরকে বন্দি করতে পারে, কিন্তু মনস্তত্ত্বের গভীরে থাকা স্বপ্ন আর স্মৃতির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে না। এই স্বপ্ন ও স্মৃতিকে পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব নেয় সাহিত্য। পাঞ্জাবি কবি পশের সেই কালজয়ী সতর্কবার্তা : “সবচেয়ে বিপজ্জনক পুলিশের মার নয়, সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশদ্রোহিতার অপরাধে জেল খাটাও নয়… সবচেয়ে বিপজ্জনক আমাদের স্বপ্নের মৃত্যু হওয়া।”
প্রতিরোধের ভাষা সবসময় এক হয় না। সরাসরি বা উচ্চকণ্ঠ বিদ্রোহের ক্ষেত্রে কাজী নজরুল ইসলাম এবং হাবিব জালিবের নাম অবিস্মরণীয়। ১৯২৩ সালে নজরুলের ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ ছিল স্বৈরাচারী ব্রিটিশ আইনের বিরুদ্ধে স্মৃতির এক মহাবয়ান। রাজদ্রোহের অপরাধে বিচারক আর এন লজের আদালতে এই ‘জবানবন্দী’ পাঠ করা হয়।
নজরুলের এই আপসহীন সুর কয়েক দশক পর প্রতিধ্বনিত হয় কবি হাবিব জালিবের কণ্ঠে। সামরিক শাসক আইয়ুব খান একটি সাজানো সংবিধান চাপিয়ে দিলে জালিব জনসভায় দাঁড়িয়ে রাজপথের ভাষায় গর্জে উঠেছিলেন: “দীপ জিসকা মহলাত হি মে জ্যলে/ চাঁদনি জিসকি মুফলিস কে ঘর না ঢলে/ অ্যায়সা দস্তুর কো, সুবহে-বে-নূর কো/ মে নহি মানতা, মে নহি জানতা।” অর্থাৎ, “যে প্রদীপ কেবল বিলাসী প্রাসাদেই জ্বলে/ যে জ্যোৎস্না গরিবের কুটিরে কখনো ঝরে না,/ এমন সংবিধানকে, এমন আলোহীন সকালকে,/ আমি মানি না, আমি জানি না।”
যে-ব্যবস্থায় চাঁদের আলো গরিবের ঘরে পৌঁছে না, সেই শাসনব্যবস্থা আসলে একটি ‘আলোহীন সকাল’। স্বৈরতন্ত্র উন্নয়নের নামে মিথ্যা আশার আলো দেখালেও সাহিত্যিক তার প্রখর দৃষ্টি দিয়ে অন্ধকারের স্বরূপটি ঠিকই চিনে নেন। তারা সমস্বরে ‘না’ বলার স্পর্ধা দেখান। জালিবের পক্ষেও এই ‘না’ বলাটাই হলো সাহিত্যের প্রথম কাজ।
স্বৈরতন্ত্র চায় আনুগত্যের রশি ধরে থাকবে সবাই, কিন্তু সাহিত্য বলে প্রশ্ন করো, করতে হবে। জালিব তাই প্রমাণ করেন, রাজপথের কবিতা ড্রয়িংরুমের কবিতার চেয়ে শক্তিশালী। আপসহীন কবিতার জন্য জালিব হয়ে উঠেছেন ‘শায়ের-ই-আওয়াম’ বা ‘জনগণের কবি’। আইয়ুব খান থেকে শুরু করে জিয়া-উল-হকের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে তার কলম ছিল সবসময় সোচ্চার।
পাঞ্জাবি কবি পশ আমাদের মনে করিয়ে দেন যে, অন্যায় সহ্য করে যাওয়া বা নির্বিকার থাকাটাই স্বৈরতন্ত্রের সবচেয়ে বড় জয়। পশের কবিতায় স্বৈরতন্ত্র মানে ‘মৃতবৎ ব্যবস্থা’। তার মতে, সবচেয়ে বিপজ্জনক সেই ঘড়ি, যা আপনার কবজিতে চললেও আপনার সময়ের জন্য স্থির হয়ে থাকে। অর্থাৎ, রাজনৈতিক সচেতনতা হারানো মানে মানসিকভাবে দাসে পরিণত হওয়া।
জার্মান সাহিত্যিক বের্টোল্ট ব্রেখট বলেছিলেন: “ইন দ্য ডার্ক টাইমস / উইল দেয়ার অলসো বি সিংগিং? / ইয়েস, দেয়ার উইল অলসো বি সিংগিং। / অ্যাবাউট দ্য ডার্ক টাইমস।” অর্থাৎ, “অন্ধকার সময়েও কি গান গাওয়া হবে? / হ্যাঁ, গান গাওয়া হবে— / অন্ধকার সময়েরই গান।”
ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ ও সাহির লুধিয়ানভি ব্রেখট দ্বারা ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। ফয়েজ নিজে কবিতাটি অনুবাদ করেছিলেন। তার ওই কবিতার অনুবাদ বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ফয়েজ জানতেন— অত্যাচারের রাজত্ব একদিন শেষ হবেই এবং সাধারণ মানুষেরও জয় হবে। সেজন্যই তিনি উচ্চারণ করেছিলেন: “লাজিম হ্যায় কি হামভি দেখেঙ্গে… যাব আরজ-এ-খোদা কে কাবে সে,/ সব বুত উঠওয়ায়ে জায়েঙ্গে/ সব তাজ উছালে জায়েঙ্গে/ সব তখত গিরায়ে জায়েঙ্গে…/ অর রাজ করেগি খলক-এ-খোদা/ জো ম্যায় ভি হুঁ অর তুম ভি হো”, অর্থাৎ, “আমরাও সেই দিনটি দেখব… যখন খোদার এই পৃথিবীরূপী কাবা থেকে/ সব অত্যাচারীর মূর্তি উপড়ে ফেলা হবে/ সব রাজমুকুট বাতাসে উড়িয়ে দেওয়া হবে/ সব সিংহাসন গুঁড়িয়ে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হবে…আর তখন রাজত্ব করবে খোদার সৃষ্টি / যে সৃষ্টি আমিও, আবার তুমিও।”
সব প্রতিরোধ সরাসরি স্লোগান হয় না। সরাসরি বিদ্রোহ যখন সেন্সরশিপের মুখে পড়ে, তখন রূপক বা মেটাফোর হয়ে ওঠে লেখকের শেষ আশ্রয়। কথাসাহিত্যিক শহীদুল জহির একে নিপুণভাবে ব্যবচ্ছেদ করেছেন। তার ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’য় দেখা যায়, কীভাবে সময়ের আবর্তনে একাত্তরের ঘাতকরা সমাজে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বৈরতন্ত্র কেবল ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে না। তা রাতে চোরের বেশে লুট করতে আসে। সাধারণ মানুষের ইতিহাস চুরি হয় ‘ভুলে যাওয়া’র মধ্যে।
জহির দেখান, রাষ্ট্র কীভাবে পরিকল্পিতভাবে অপরাধীদের নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে চায়। অতি সাধারণ মানুষরা কেবল তাদের ব্যক্তিগত ‘স্মৃতি’র মাধ্যমেই সেই মিথ্যার জাল ছিঁড়ে ফেলতে পারে। এ মর্মেই জহির তার জাদুকরী গদ্যে স্মৃতি ও বর্তমানকে বিমিশ্রিত করে তোলেন। শাসক শ্রেণির ভণ্ডামিকে চিনে নেওয়ার আয়নাটা সামনে রাখতে পারেন। একইভাবে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস তার ‘খোয়াবনামা’ বা ‘চিলেকোঠার সেপাই’-তে দেখান যে, জনগণের লড়াইয়ের ইতিহাসকে রাষ্ট্র কীভাবে আড়াল করতে চায়। সাহিত্য সেই ধুলো জমা ইতিহাসকে ঝেড়ে পরিষ্কার করে। আয়নার মতো তখন স্পষ্ট হয়ে ওঠে অতীতের সত্য।
স্বৈরতন্ত্রের সবচেয়ে বড়ো আঘাত প্রায়ই নেমে আসে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর। তাই তাদের প্রতিরোধও হয় দ্বিগুণ শক্তিশালী। ফাহমিদা রিয়াজ উচ্চারণ করেন, “এই দেশ কারও বাবার সম্পত্তি নয় যে, সে এটিকে কিনে নেবে”। ক্ষমতার দম্ভের বিরুদ্ধে এটি নিঃসন্দেহে অমোঘ উচ্চারণ, চরম সত্যবাণী।
নজরুল থেকে সুকান্ত— প্রত্যেকেরই কথায় খুঁজে পাওয়া যাবে সমোচ্চারিত কাব্যভঙ্গি। কবির কাজ মাথা নত করা নয়। রক্ত আর ক্ষতকে আড়াল না করে তারাই বিশ্বকে খোলা চোখে দেখাতে পারেন। সুকান্তের ‘হে মহাজীবন’-এর ঝলসানো রুটি কিংবা ‘একটি মোরগের কাহিনী’র রূপক তো আজও বৈশ্বিক ক্ষুধা ও রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার এক চরম রাজনৈতিক বয়ান। শাসককে চোখে চোখে না রাখলে মোরগের পরিণতিই বহন করতে হয়— “তারপর সত্যিই সে একদিন প্রাসাদে ঢুকতে পেল,/ একেবারে সোজা চলে এল/ ধপ্ধপে সাদা দামী কাপড়ে ঢাকা খাবার টেবিলে;/ অবশ্য খাবার খেতে নয়—/ খাবার হিসেবে।”
বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে স্বৈরতন্ত্রের রূপ বদলেছে। এখন তা আর কেবল লাঠিপেটা নয়, ‘ডিজিটাল প্যানোপটিকন’ বা নজরদারি ও অ্যালগরিদমের খেলা। এ এক অদ্ভুত নিয়ন্ত্রণ-জাল— মানুষের চিন্তা এখন পর্যবেক্ষণের চূড়ায়। নিপীড়ক রাষ্ট্রগুলো তথ্য নেয়, চুরি করে আর বিকৃতির মাধ্যমে ‘স্মৃতিভ্রংশতা’ তৈরি করে। পশের সেই ‘স্বপ্নের মৃত্যু’ আজ ডিজিটাল স্পেসে ‘বট’ বা ‘ট্রল’-এর মাধ্যমে কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।
অরুন্ধতী রায় বা অমিতাভ ঘোষের গদ্য এখানে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। বড় বড় করপোরেট ও রাষ্ট্র মিলে ইতিহাসকে নিজেদের মতো করে সাজাতে চাইছে। অরুন্ধতী রায়ের উপন্যাসে প্রান্তিক মানুষের স্মৃতি হয়ে ওঠে এই সাজানো ইতিহাসের প্রতিরোধ। অমিতাভ ঘোষ তার নন-ফিকশন ‘দ্য গ্রেট ডিরেঞ্জমেন্ট’ এবং সাম্প্রতিক উপন্যাসগুলোতে দেখিয়েছেন যে, আধুনিক রাষ্ট্র ও করপোরেট শক্তি কীভাবে তথ্যের পাহাড় দিয়ে আসল সত্যকে আড়াল করে।
স্বৈরতন্ত্র সবসময় চায় একটি ‘একমুখী বয়ান’ তৈরি করতে। সেখানে শাসকই সর্বেসর্বা, একমাত্র নায়ক। কিন্তু সাহিত্যিকরা তৈরি করেন অযুত ‘স্মৃতির মিউজিয়াম’। সেখানে নজরুলের বিদ্রোহ আছে, ফয়েজের ধৈর্য আছে, শহীদুল জহিরের রূপক আছে, আরও আছে পশের মরে না যাওয়া স্বপ্ন। এই বিচিত্র সব স্মৃতি একতাবদ্ধ হলে স্বৈরতন্ত্র-নির্মিত মিথ্যার দেয়াল বালির বাঁধের মতো ধসে পড়ে।
সর্ববাদীসম্মত সত্য এই যে, স্বৈরতন্ত্রের পতন অনিবার্য। উপমহাদেশের সাহিত্যে নজরুল, ফয়েজ, জালিব, সুকান্ত, জহির, ইলিয়াস, ফাহমিদা, পশ, অমিতাভ বা অরুন্ধতীর মতো লেখকরা প্রমাণ করেছেন যে, রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপের চেয়ে মানবিক সংহতি আর স্মৃতির দুর্গ অমিত শক্তিশালী। কেননা স্বৈরতন্ত্রের দিনপঞ্জি লেখা হয় বালিতে, যা সময়ের স্রোতে মুছে যায়; কিন্তু প্রতিরোধের সাহিত্য খোদাই করা থাকে মানুষের হৃদয়ে, যা যুগান্তরের ইতিহাস হয়ে বেঁচে থাকে।
অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়