সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজের সর্বশেষ আদেশে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরকে আর ঋণখেলাপি হিসেবে গণ্য করা হবে না।
আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি মো. রেজাউল হক প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেডের করা এক আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
সরোয়ার আলমগীর ঋণখেলাপি নন বলে ঘোষণার বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের ওপর আগে দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হয়।
চেম্বার জজ তার আগের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করায় হাইকোর্টের ওই রায় কার্যকর থাকছে।
প্রিমিয়ার লিজিংয়ের সঙ্গে সরোয়ার আলমগীরের ঋণ পুনঃতফসিলের বিষয়টি আজ বৃহস্পতিবার দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেন প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী মলয় কুমার রায়।
তিনি বলেন, ঋণ সংক্রান্ত বিষয়টি নিষ্পত্তির আওতায় এসেছে।
সরোয়ার আলমগীরের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন তার মক্কেলের মনোনয়ন বাতিল করেছিল। ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।
তিনি বলেন, রোববার রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট অনুমতি দিলে সরোয়ার আলমগীর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।
এদিকে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে কুমিল্লা-১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়ন বাতিলের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সংক্ষিপ্ত শুনানিতে তার করা রিট আবেদন খারিজ করেন।
একই আসনের বাংলাদেশ কালচারাল লিবারেশন অ্যালায়েন্সের প্রার্থী কাজী নুরে আলম সিদ্দিকী দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলেন। গত ১৮ জানুয়ারি শুনানি শেষে কমিশন গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়ন বাতিল করে।
ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আবদুল গফুর ভূঁইয়া গত সোমবার হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
অন্যদিকে কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি ঋণখেলাপির অভিযোগে তার মনোনয়ন বাতিলে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল রাখায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গতকাল সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন।
সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে চেম্বার জজ আবেদনটি বিস্তারিত শুনানির জন্য আগামী সোমবার পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মঞ্জুরুলের আইনজীবী মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ঋণ পুনঃতফসিল হওয়ায় তার মক্কেলও বর্তমানে ঋণখেলাপি নন।
১৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন মঞ্জুরুলের মনোনয়ন বাতিল করলেও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর প্রার্থিতা বহাল রাখে।
গতকালের শুনানিতে মঞ্জুরুলের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও রুহুল কুদ্দুস কাজল উপস্থিত ছিলেন। হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু ।