রাফিনিয়াকে ছাড়াই কঠিন এক অ্যাওয়ে পরীক্ষায় নামতে যাচ্ছে এফসি বার্সেলোনা। রোববার লা লিগায় রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে আনোয়েতায় মুখোমুখি হবে কাতালানরা। যে মাঠে গত মৌসুমেও ১–০ ব্যবধানে পরাজয়ের তিক্ত স্মৃতি রয়েছে তাদের।
ম্যাচের সকালে বার্সেলোনা নিশ্চিত করেছে, ডান উরুতে পাওয়া চোটের কারণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই ম্যাচে খেলবেন না ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার রাফিনিয়া। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে কোচ হান্সি ফ্লিক নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বিষয়টি নিয়ে, ‘ওর একটা সমস্যা আছে। খেলবে নাকি বিশ্রাম পাবে, সেটা আমরা দেখব।’ শেষ পর্যন্ত বিশ্রাম দেওয়ার দিকেই ঝুঁকেছে ক্লাব।
সুপার কাপ ও কোপা দেল রে শেষ করে লা লিগায় ফিরছে বার্সেলোনা। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে আগেই গাভি ও আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেনকে পাচ্ছে না দল। এর মধ্যে রাফিনিয়ার অনুপস্থিতি আক্রমণভাগে বাড়তি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে এমন এক মাঠে খেলতে হচ্ছে, যেখানে আগের মৌসুমে গোলশূন্য লড়াইয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেনি বার্সা।
সবশেষ রেসিং সানতান্দারের বিপক্ষে ম্যাচে ধাক্কা খেয়ে অস্বস্তিতে ভুগছিলেন রাফিনিয়া। এরপর এল ক্লাসিকোতেও আরেকটি সংঘর্ষে পড়েন তিনি। ফলে সান সেবাস্তিয়ানে সফর করা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল শুরু থেকেই। শেষ পর্যন্ত ঝুঁকি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোচিং স্টাফ। তার জায়গায় একাদশে দেখা যেতে পারে মার্কাস রাশফোর্ডকে।
তবে দলে ফিরেছেন ফ্র্যাঙ্কি ডি ইয়ং। সুপার কাপের ফাইনালে লাল কার্ড দেখার পর এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এবার সরাসরি শুরুর একাদশে ফেরার কথা তার। মিডফিল্ডে পেদ্রির সঙ্গে ডি ইয়ংয়ের জুটি প্রায় নিশ্চিত, যদিও তরুণ মার্ক বার্নালকেও নজরে রেখেছেন ফ্লিক।
রক্ষণভাগে কুন্দে, কুবারসি, এরিক গার্সিয়া ও বালদেকে নিয়ে পরীক্ষিত চারজনের লাইনআপেই আস্থা রাখছেন জার্মান কোচ। ডান উইংয়ে থাকবেন লামিনে ইয়ামাল, অন্য প্রান্তে রাশফোর্ড। আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডে দানি ওলমো ও ফেরমিন লোপেজের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও এগিয়ে আছেন ফেরমিনই। স্ট্রাইকার হিসেবে রবার্ট লেভানডোস্কির সঙ্গে ফেরান তোরেসকেও ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যবহার করার ভাবনায় আছে কোচিং স্টাফ।
২১ সদস্যের স্কোয়াড নিয়ে সোসিয়েদাদের মাঠে লড়াইয়ে নামছে বার্সেলোনা। কোনো রিজার্ভ খেলোয়াড় ডাকা হয়নি। লক্ষ্য একটাই, গত মৌসুমের হতাশা ভুলে আনোয়েতা থেকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে ফেরা। তবে রাফিনিয়াকে ছাড়া সেই চ্যালেঞ্জ যে মোটেই সহজ নয়, তা ভালোভাবেই জানে কাতালান শিবির।