যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সুবিধাভিত্তিক চুক্তি চায় ইরান

Date:

সম্ভাব্য পারমাণবিক সমঝোতাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান এমন একটি চুক্তি চায়, যা দুই দেশের জন্যই অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসের শুরুতে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসন এবং সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা এড়াতে দুই দেশ আবারও আলোচনা শুরু করে।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার কয়েক দিন আগে রোববার এক ইরানি কূটনীতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, জ্বালানি, খনি ও বিমান খাতের বিষয়ও আলোচনার টেবিলে রয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেন, যদিও তা সফল নাও হতে পারে।

তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে সফল কোনো চুক্তি কেউ করতে পারেনি, তবে আমরা চেষ্টা করব।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানার হুমকি দিয়েছিল ইরান। তবে রোববার তারা তুলনামূলক সমঝোতার সুরে কথা বলেছে বলে জানায় রয়টার্স।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক কূটনীতি বিষয়ক উপপরিচালক হামিদ ঘানবারি আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সিকে বলেন, টেকসই চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেও দ্রুত ও উচ্চ অর্থনৈতিক মুনাফা নিশ্চিত করতে হবে।

২০১৫ সালে এক চুক্তির আওতায় ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমাবদ্ধ করার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল পেয়েছিল বলে জানিয়েছে রয়টার্স। পরে ওয়াশিংটন পুনরায় কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

শুক্রবার একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, মার্কিন প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার জেনেভায় ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে। রোববার এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চালাচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিতে জেনেভার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছে তার মন্ত্রণালয়।

এদিকে দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি বলেন, চুক্তি করতে যুক্তরাষ্ট্রের সদিচ্ছা প্রমাণের দায়িত্ব এখন তাদেরই।

রয়টার্স জানায়, ইরানের ভেতরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত থাকলে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে মনে করে ওয়াশিংটন। তবে ইরান এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, চীনে তেল রপ্তানি কমাতে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

বর্তমানে ইরানের তেল রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি যায় চীনে। ফলে ওই বাণিজ্য কমে গেলে দেশটির তেল আয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা মাথায় রেখে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছে এবং প্রস্তুতি নিচ্ছে।

Popular

More like this
Related

এলপিজির চলমান সংকট কৃত্রিম, ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ ব্যবসায়ীদের

ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানিতে বেশ...

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা অস্বস্তিতে ফেলছে মিত্রদের

আসন ভাগাভাগির সমঝোতা থাকলেও মিত্র দলগুলোর জন্য ছেড়ে দেওয়া...

নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল চ্যালেঞ্জ করে রিট

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের...

গাজীপুরে ট্রেনের ২ বগি বিচ্ছিন্ন

গাজীপুরের পূবাইল রেলস্টেশনে ঢাকাগামী এগারোসিন্দুর প্রভাতী ট্রেনের পেছনের দুটি...