মা-বোনেরা বুঝে গেছেন, তাদের ইজ্জত কার কাছে নিরাপদ: জামায়াত আমির

Date:

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘ক্ষমতায় যাওয়ার আগে যাদের কাছে মানুষ নিরাপদ না, তারা ক্ষমতায় গেলে জনগণ নিরাপদে থাকবে না।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের যুবসমাজ ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে জুলাইয়ের চেতনা কারা বাস্তবায়ন করবে। একইভাবে মা-বোনেরাও বুঝে গেছেন, তাদের ইজ্জত ও নিরাপত্তা কার কাছে নিরাপদ।’

আজ শুক্রবার দুপুরে নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘তারা ধৈর্য ধরে রাখতে পারেননি, বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন। আর যারা দেশকে ভালোবাসার প্রমাণ দিয়েছেন, তাদের হাতে যদি দেশের দায়িত্ব আসে, তাহলে ভালোবাসাভিত্তিক একটি দেশ গড়ে তোলা সম্ভব। মানুষ এটা বুঝতে পেরেছে, তাই সারা দেশে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে জোয়ার শুরু হয়েছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু নোয়াখালী নয়, সারা দেশে আমি যেখানে যাচ্ছি, সেখানেই মানুষের ভালোবাসা দেখতে পাচ্ছি। বিশেষ করে যারা জুলাই যুদ্ধ করেছেন, সেই যুবসমাজ মুখিয়ে আছেন ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে একটি নতুন বাংলাদেশে দেখার জন্য। তারা বুঝতে পেরেছেন জুলাই চেতনার আকাঙ্ক্ষা কাদের দ্বারা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘আধুনিক পোশাক পরা এক নারীকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন—আপনি কাকে ভোট দেবেন? ওই নারীর জবাবে বলেছিলেন—জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেবো। তখন সাংবাদিক ওই নারীর কাছে জানতে চান, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে তো আপনি এই আধুনিক পোশাক পরতে পারবেন না। তখন ওই নারী বলেন—আমি আধুনিক পোশাক ছেড়ে দেবো। এতেই প্রমাণিত হয় নারীরা কোন দলকে বেশি পছন্দ করে।’

তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য লড়াই শুরু হয়েছে। আমরা ক্ষমতায় গেলে সরকারি কর্মচারীদের ন্যায়সঙ্গত বেতন-ভাতার বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় বাড়িয়ে সম্মানজনকভাবে করা হবে। যাতে করে টেবিলের নিচ দিয়ে লেনদেন করতে না হয়।’
 
জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘গত সাড়ে ১৫ বছরে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত রাজনৈতিক দল হচ্ছে জামায়াত। ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের দলের নিবন্ধন কেড়ে নিয়ে অফিস বন্ধ করে দিয়েছিল। এতেই তারা ক্ষান্ত হননি, নিষিদ্ধও ঘোষণা করেছিল। আমরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। 

তিনি আরও বলেন, ‘গত বছরের ৫ আগস্টের পর আমরা কথা দিয়েছিলাম—প্রতিশোধ নেবো না,  হামলা ও মামলা বাণিজ্য করবো না। আমরা আমাদের কথা রেখেছি। কিন্তু কেউ কেউ সেই কথা রক্ষা করতে পারেননি, অবশ্য এটা তাদের ব্যাপার।’ 

এর আগে ফেনীতে এক নির্বাচনী জনসভায় শফিকুর রহমান বলেন, দেশকে যারা ভালোবাসেন, তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট দেবেন। হ্যাঁ হচ্ছে আজাদি আর না হচ্ছে গোলামি। 

তিনি আরও বলেন, আমরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চাই। রাজার ছেলে রাজা হবে না, জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করে যোগ্য ব্যক্তির মূল্যায়ন করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা হবে।

 

Popular

More like this
Related

নিজ কার্যালয়ে বিদায়ী বক্তব্য দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার কার্যালয়ের...

এনসিপি জুলাই সনদে সই করবে আজ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আজ জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে।দলটির...

আমার বাসায় তারেক রহমানের আগমন জাতীয় রাজনীতির ঐতিহাসিক মুহূর্ত: শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বাংলাদেশের ভবিষ্যত...

বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় একটি সোয়েটার কারখানার শ্রমিকেরা...