‘মানুষ আবার হলে যাচ্ছে, সিনেমা দেখছে, এটা শিল্পের জন্য ভালো’

Date:

বাংলা নাটকের প্রাণ পুরুষ মামুনুর রশীদ। দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে নাটক লেখা, পরিচালনা ও অভিনয়ের সঙ্গ যুক্ত আছেন। তার নাটকে মাটি ও মানুষের গল্প উঠে এসেছে। দেশ-বিদেশের বহু মঞ্চে তিনি নাটক উপস্থাপন করেছেন। ১৯৭২ সালে শহীদ মুনীর চৌধুরীর কবর নাটক দিয়ে প্রথমবার পরিচালনায় নাম লেখান। এখনো লিখছেন, অভিনয় করছেন ও নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেন মামুনুর রশীদ।

এই মুহূর্তে শিল্প নিয়ে আপনার ভাবনা কী—এমন প্রশ্নের জবাবে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘একটা মুক্ত চিন্তার পরিবেশ তৈরি করা। সংস্কৃতিকর্মীদের চিন্তার বহিঃপ্রকাশ দরকার। সৃজনশীলদের নেতৃত্বে নাটক, আবৃত্তি, চারুকলা, সংগীতের বিভিন্ন সংগঠন গড়ে ওঠা উচিত। কোনো দলীয় চিন্তা পরিহার করে স্বাধীন চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো দরকার।

তিনি আরও বলেন, ফর্ম ও কনটেন্টের ব্যাপারে অবশ্যই কনটেন্ট আন্তর্জাতিক হতে পারে। ফর্ম বা আঙ্গিকটা জাতীয় হতে হবে। লালন, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত, জীবনানন্দ দাশ, শামসুর রাহমান, আল মাহমুদসহ যত কবি ও লেখক কালজয়ী হয়েছেন, তারাও জাতীয় আঙ্গিক ব্যবহার করেছেন।

‘মঙ্গল শব্দটা মঙ্গল কাব্য, মঙ্গল চিন্তা, অসময়ের মধ্যে জেগে উঠে এসেছে। মানুষের মঙ্গল কামনা করা—এটি সব মানুষের মধ্যে প্রচলিত। মানুষ মানুষের জন্য মঙ্গল কামনা করেন। এখন মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়েও কথা হচ্ছে। জনগণের সংস্কৃতি চিন্তাকে উপেক্ষা করা খুব অনভিপ্রেত,’ বলেন তিনি।

বর্তমানে থিয়েটারের অবস্থা নিয়ে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘থিয়েটার স্থবির হয়ে ছিল। দেশ নাটকের প্রদর্শনী মববাজির কারণে বন্ধ ছিল। তীব্র প্রতিবাদ হয়েছিল, আমরা সমাবেশ করেছি। এখন ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। দর্শক নাটক দেখতে আসছে। নতুন নতুন নাটক আসছে। আশা করছি মঞ্চের অবস্থা ভালো হবে।’

বর্তমান সরকারের কাছে শিল্পসাহিত্য নিয়ে চাওয়া ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘যেসব ক্লাসিক শিল্প আছে তা সংরক্ষণ করতে হবে। লোকসংস্কৃতি অবলুপ্তির পথে, রক্ষা করা দরকার। থিয়েটারে টিকিট বিক্রির যে টাকা আসে তা সামান্য, এখানে অনুদান দরকার। অবকাঠামো করা দরকার। রাজধানীর মিরপুরে যদি এক কোটি মানুষ বসবাস করেন, তাদের জন্য একটি থিয়েটারও নেই, খুব দরকার মিরপুরে থিয়েটারের। রাজধানীর উত্তরা, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডিতে থিয়েটার নেই, এইসব জায়গায় থিয়েটার দরকার।’

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘সেভাবে পাঠাগার নেই, থিয়েটার নেই, সিনেমা হল নেই। সরকারের সুদৃষ্টি দরকার। প্রত্যেকটি উন্নত দেশের লাইব্রেরি আছে। উন্নত দেশের বেশিরভাগ জায়গায় লাইব্রেরির ভেতরে মঞ্চ আছে। নিউইয়র্ক, ডালাসে অনেক দেখেছি। এগুলো থাকলে তরুণরা ভালো থাকবে, পজিটিভ চিন্তা করবে।’

নিজের অপূর্ণতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘এখনো মনে করি, ভালো নাটক লিখতে পারিনি, ভালো অভিনয় করতে পারিনি। সবসময় এসবই মনে হয়। আর মনে হয় বলেই নতুন নতুন সৃষ্টির নেশায় ব্যস্ত হয়ে পড়ি।’

ঈদের সিনেমা নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘মানুষ আবার হলে যেতে শুরু করেছে। পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখছে। এটা সিনেমা শিল্পের জন্য ভালো উদাহরণ।’

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে মঞ্চ নাটকের তুলনা নিয়ে তার ভাষ্য, ‘আমাদের মঞ্চ নাটক অনেক দূর এগিয়েছে। তবে, পশ্চিমবঙ্গে থিয়েটার বেশি। পুরো পশ্চিমবঙ্গজুড়ে, বিশেষ করে শহরে এবং গ্রামেও থিয়েটার আছে। সেখানে নিয়মিত নাটক হচ্ছে। নিয়মিত অভিনয় করার সুযোগ পাচ্ছে।’

কলকাতায় মঞ্চ নাটক নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মামুনুর রশীদ বলেন, বহু দেশে মঞ্চ নাটক নিয়ে গিয়েছি। তবে, পশ্চিমবঙ্গের যে কোন শহরে আমাদের ‘আরণ্যক নাট্যদল’-এর নাম বললে ওখানকার মানুষ চিনবেন। আমরা অনেকবার নাটক করেছি। আমাদের নাটক প্রশংসিত হয়েছে। কলকাতায় আমার নির্দেশিত নাটকের ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছি।

তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী হওয়ার বিষয়ে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘মানুষকে পড়তে হবে। সুস্থ জীবন নিয়ে চলতে হলে বই পড়তে হবে। মানুষের জীবনে বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা অনেক। এটা নিত্য দিনের কাজ।’

Popular

More like this
Related

তেলের দাম বাড়ানোর সঙ্গে আইএমএফের শর্তের সম্পর্ক নেই: অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের...

বুলবুল ভাইকে কল দিয়ে বুঝলাম আমিও ব্লকড: তামিম

সাবেক অধিনায়ক হিসেবে ‘ক্যাপ্টেন্স কার্ড’ গ্রহণ করার জন্য আমিনুল...

বিএনপির কাউন্সিল করতে কয়েক মাস লাগবে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল করতে অন্তত কয়েক মাস সময় লাগবে...

ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের পাইলটরা যেভাবে আত্মরক্ষা করেন

যুদ্ধক্ষেত্রে একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়া মানেই মিশনের সমাপ্তি নয়...