বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে ও ব্লু-ইকোনমি (নীল অর্থনীতি) খাতে ব্রিটিশ বিনিয়োগ বাড়াতে লন্ডনে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল স্থানীয় সময় সোমবার লন্ডনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী স্যার ক্রিস ব্রায়ান্ট এমপির সঙ্গে বৈঠক করেন।
লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল বাংলাদেশের এভিয়েশন বা বিমান চলাচল খাতের আধুনিকায়ন। ব্রিটিশ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতকে এগিয়ে নিতে দুটি পৃথক বৈঠক করেন।
আলোচনা হয় কীভাবে ঢাকাকে এই অঞ্চলের প্রধান একটি এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলা যায়। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রসীমার নীল অর্থনীতিতে বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের বিষয়েও ব্রিটিশ মন্ত্রী আগ্রহ প্রকাশ করেন।
উভয় পক্ষ আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের পরিচিতি আরও বাড়ানো ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়ে একমত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি ও বহুপাক্ষিক সম্পর্কের বিস্তৃতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
চলতি মাসের শেষে ক্যামেরুনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১৪তম বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনকে সামনে রেখে দুই দেশ নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
একই দিনে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটন বাংলাদেশ হাইকমিশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
অন্যদিকে, ২০২৭-২০৩৬ মেয়াদের জন্য আন্তর্জাতিক আদালতের (আইসিজে) ব্রিটিশ বিচারক পদপ্রার্থী দাপো আকান্দেও তার প্রার্থিতা নিয়ে বাংলাদেশের সমর্থন প্রত্যাশা করে সাক্ষাৎ করেন।
দুই দেশই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরাম ও নির্বাচনে একে অপরের প্রতি বিদ্যমান সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং আগামী দিনগুলোতে আইনি ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে এই অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।