খেলার দিন পনেরো আগে থেকে কত নাটকীয়তা! পাকিস্তান বর্জনের ঘোষণা দিয়ে শেষ পর্যন্ত ভারতের বিপক্ষে নামল। বিশ্বকাপ মঞ্চে যথারীতি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলের কাছে হারলও তারা। এবারের হারটা এত বেশি শোচনীয় যে সাবেক পাকিস্তানি স্পিনার দানিশ কানেরিয়া বলছেন, ‘এর চেয়ে বর্জন করাটাও হয়তো কম লজ্জাজনক হতো।’
কলম্বোতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে ভারতের কাছে ৬১ রানে হারে পাকিস্তান। ম্যাচের কোনো পর্যায়েই দুই দলের লড়াই জমেনি। মাঠের বাইরের হাইপ খেলা শুরুর পর কেমন যেন বিবর্ণ হয়ে যায়। ভারতের ১৭৫ রানের জবাবে টেনেটুনে ১১৪ রান পর্যন্ত যেতে পারে পাকিস্তানিরা।
Honestly, a boycott might have been less embarrassing. #INDvsPAK
— Danish Kaneria (@DanishKaneria61) February 15, 2026
এমন হারের পর পাকিস্তানের সমালোচনা হচ্ছে প্রবল। সেই তালিকায় তাদের সাবেক ক্রিকেটাররাই বেশি অগ্রণী।
ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে সাবেক পাক লেগ স্পিনার কানেরিয়া লিখেছেন, ‘সত্যি বলতে, বর্জন করাটা হয়তো কম লজ্জাজনক হতো।’
Well that was a bit of a disaster- especially batting !! India have been fielding same bowling attack against Pakistan since last 2/3 years and every time batsmen have been woefully ordinary …no growth …
— Ramiz Raja (@iramizraja) February 15, 2026
সাবেক পাকিস্তানি ব্যাটার ও ধারাভাষ্যকার রমির রাজার মতে পাকিস্তানি ব্যাটারদের কোন উন্নতি নেই, ‘আসলে এটি এক বিপর্যয়ের মতো ছিল—বিশেষ করে ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে!! ভারত গত ২/৩ বছর ধরে পাকিস্তানের বিপক্ষে একই বোলিং আক্রমণ ব্যবহার করে আসছে এবং প্রতিবারই ব্যাটসম্যানরা অত্যন্ত সাধারণ মানের পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন… কোনো উন্নতি নেই…।‘
পাকিস্তানি চ্যানেল এ-স্পোর্টসে দেশটির সাবেক ব্যাটার বাসিত আলি তুলোধুনো করেন পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের। তার মতে লড়াইয়ের কোন যোগ্যতা দেখাতে পারেনি পাকিস্তান। সেই সঙ্গে বাবর আজমকে চারে নামানোর তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
পাকিস্তান গোটা ম্যাচে এত দুর্বল ক্রিকেট খেলেছে যে অন্য দেশের বিশেষজ্ঞদেরও তা চোখে লেগেছে। সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল ভন মনে করেন, পাকিস্তান ভারতের মতো দক্ষ দলের বিপক্ষে চাপই নিতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট মাঠে ভারত পাকিস্তানকে আতঙ্কিত করে রাখে বলে মনে হয়.. তারা খেলার সব বিভাগেই অনেক বেশি দক্ষ এবং বড় আসরের চাপ সামলে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের মানসিকতা অনেক উন্নত।’
ইএসপিএন-ক্রিকইনফোতে ভারতীয় কিংবদন্তি অনিল কুম্বলে বলেন, ‘এটি মোটেও সমানে সমান লড়াই ছিল না। ভারতীয় বোলাররা অনেক ভালো বল করেছেন। পিচ ব্যবহার করা জরুরি ছিল যা হার্দিক শুরুতেই করে দেখিয়েছেন। আর জাসপ্রিত বুমরাহ তো অনন্য পর্যায়ের।’
জিও-হটস্টারে সাবেক ভারতীয় পেসার ইরফান পাঠান বলেন, ‘ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এখন আর কোনো লড়াই অবশিষ্ট নেই। আমরা এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আলোচনা করি কেবল মাঠের বাইরের উত্তাপের কারণে।’