পাথুম নিসাঙ্কার দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে সুপার এইটে জায়গা নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া চলে গেছে আগেভাগেই বিদায়ের মুখে। আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সোমবারের ম্যাচে নিসাঙ্কার শতকে ক্যান্ডিতে আট উইকেটের দাপুটে জয় পায় লঙ্কানরা।
টার্গেট ছিল ১৮২ রান। নিসাঙ্কা ৫২ বলে অপরাজিত ১০০ রান করেন। নিজের ইনিংসটি ৫টি ছক্কা ও ১০টি চারে সাজান। তার নেতৃত্বে ১৮.০ ওভারে ২ উইকেটে ১৮৪ রান তুলে সহজ জয় তুলে নেয় লঙ্কানরা।
গ্রুপ-বি’র সমীকরণে এখনো ঝুলছে অস্ট্রেলিয়ার ভাগ্য। মঙ্গলবার জিম্বাবুয়ে যদি আয়ারল্যান্ডকে হারায় অথবা বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করে, তাহলে ২০২১ সালের চ্যাম্পিয়নদের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাবে। আর জিম্বাবুয়ে দুই ম্যাচই হারলে, অস্ট্রেলিয়াকে শুক্রবার শেষ ম্যাচে ওমানকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে নেট রানরেটে এগোতে হবে।
অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক মিচেল মার্শ হতাশ কণ্ঠে বলেন, “এখন সবই যেন ভাগ্যের হাতে। ড্রেসিংরুমে অনেক আবেগ কাজ করছে। আমরা সেরা খেলাটা খেলতে পারিনি—এই মুহূর্তে সবাই খুব হতাশ।”
নিসাঙ্কা দ্বিতীয় উইকেটে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার কুশল মেন্ডিসর সঙ্গে ৬৬ বলে ৯৭ রানের জুটি গড়েন। মেন্ডিস টুর্নামেন্টে নিজের তৃতীয় অর্ধশতক তুলে নেন। পরে তার আউট হওয়ার পর পবন রথনায়েকেকে নিয়ে ৩৪ বলে ৭৬ রানের আরেকটি বিধ্বংসী জুটি গড়ে ম্যাচ শেষ করে দেন নিসাঙ্কা।
এই ইনিংসের মাধ্যমে নিসাঙ্কা টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার প্রথম ব্যাটার হিসেবে দুটি শতক করার কীর্তিও গড়লেন। স্পিনারদের বিপক্ষে তার চমৎকার কভার ড্রাইভ এবং পেসারদের বিরুদ্ধে নিখুঁত ফ্লিক শট ছিল চোখ জুড়ানো।
বিশ্বকাপে আসার আগে ইংল্যান্ডর কাছে ৩–০ ব্যবধানে সিরিজ হারলেও টুর্নামেন্টে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে শ্রীলঙ্কা, এ পর্যন্ত তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছে তারা।
অন্যদিকে ইনজুরিতে জর্জরিত অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। প্রথম দুই ম্যাচ মিস করা মার্শ ফিরে এসে ৫৪ রান করেন। ওপেনিংয়ে ট্রাভিস হেড (৫৬)–এর সঙ্গে ৫১ বলে ১০৪ রানের জুটি গড়ে বড় সংগ্রহের ভিত গড়েন।
২০০ রানের বেশি লক্ষ্য সামনে আসবে মনে হলেও শ্রীলঙ্কার ধীরগতির বোলিং আক্রমণ অস্ট্রেলিয়াকে আটকে দেয় ১৮১ রানে। লেগ স্পিনার দুশান হেমন্ত নেন ৩ উইকেট ৩৭ রানে।
শেষ দিকে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে ধস নামে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে। শেষ ৬ উইকেট তারা হারায় মাত্র ২১ রান যোগ করতে, তাও মাত্র ২৪ বলের মধ্যে।