জ্বালানির স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ঠাকুরগাঁওয়ের ফিলিং স্টেশনগুলো গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
মোটরসাইকেলের জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে গত রাতে একটি ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর চালায়ে একদল যুবক। শহরের জগন্নাথপুর পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে মেসার্স হানিফ ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড সার্ভিসিং সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তারা সীমিত আকারে জ্বালানি সরবরাহ করছেন।
ভাঙচুরের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে শতাধিক মোটরসাইকেল আরোহী বিশৃঙ্খলভাবে পাম্প এলাকায় অপেক্ষা করছিলেন। এক পর্যায়ে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে দুই আরোহীর মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পর লাঠিসোঁটা নিয়ে ৫০-৬০ জন যুবক স্টেশনে ঢুকে ভাঙচুর চালায়।
তারা ক্যাশিয়ার ও এক কর্মচারীকে মারধর করেন এবং স্টেশন অফিসের পেছনে থাকা ব্যবস্থাপকের বাস ভবনেও ভাঙচুর চালান।
যোগাযোগ করা হলে পাম্পের ব্যবস্থাপক আব্দুল হালিম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, গত রাত ৮টার দিকে জ্বালানি নিয়ে একটি লরি তাদের স্টেশনে পৌঁছায়। জ্বালানি খালাস শেষে রাত ৯টা ২০ মিনিটে বিতরণ শুরু হয়।
‘এই সময়ে শত শত মোটরসাইকেল আরোহী স্টেশনে জড়ো হয়েছিলেন,’ বলেন হালিম।
তিনি আরও বলেন, ‘এক পর্যায়ে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে দুই আরোহীর ঝগড়া শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর ৫০ থেকে ৬০ জন যুবক বাঁশ হাতে হঠাৎ স্টেশনে ঢুকে হামলা চালায়।’
এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ঠাকুরগাঁও পৌর এলাকায় ছয়টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে মাত্র দুটি জ্বালানি সরবরাহ করছিল। প্রতিটি স্টেশনে হাজারের বেশি মোটরসাইকেল আরোহী জ্বালানি নিতে অপেক্ষা করছিলেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের ফকিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মজিবুল হক লিটন জানান, ছয়টি স্টেশনে ঘুরেও তিনি মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানি পাননি, কারণ অধিকাংশই বন্ধ ছিল।
তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে এনামুল ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখি আমার সামনে প্রায় এক হাজার মোটরসাইকেল। কখন জ্বালানি পাব, তা নিশ্চিত নই। সবাইকে ২০০ টাকার জ্বালানি দেওয়া হচ্ছিল।’
একই পৌরসভার গোয়ালপাড়া এলাকার হামিদুল হক জানান, তিনি প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে রূপসী বাংলা অয়েল ব্যাংকের (ফিলিং স্টেশন) সামনে অপেক্ষা করছেন। তার ধারণা, সিরিয়াল অনুযায়ী জ্বালানি পেতে তার আরও দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতে পারে।
এ সময় ইসলামনগরের বাসিন্দা আরফানসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, কিছু ফিলিং স্টেশন মালিক জ্বালানি কালোবাজারে বিক্রি করছেন। ফলে পাম্পের বাইরে বিভিন্ন স্থানে বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে।
কালোবাজারে তেল বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আবু সাঈদ বলেন, সন্ধ্যায় জ্বালানি পাওয়ার পর তারা প্রতি মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার জ্বালানি দিচ্ছেন এবং মজুত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জ্বালানির সরবরাহ এতটাই সীমিত যে যানবাহন ও মোটরসাইকেল মালিকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
ঠাকুরগাঁও ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তাক আহমেদ বলেন, তারা নিয়মিত তাদের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি পাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, ডিপো কর্তৃপক্ষ এক-দুই দিন পরপর নয় হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতার একটি লরির বিপরীতে মাত্র তিন থেকে সাড়ে চার হাজার লিটার জ্বালানি সরবরাহ করছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি পাওয়া যেত।
যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের বগুড়া বিভাগীয় কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বিপণন) সাইদুল আলম চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
পার্বতীপুর ডিপোর পদ্মা অয়েলের সহকারী ব্যবস্থাপক আহসান হাবিব চৌধুরীও নির্দিষ্ট পরিমাণে জ্বালানি সরবরাহের কথা উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, পঞ্চগড় জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। সেখানে জ্বালানি বিতরণ শুরু হলেই শত শত মোটরসাইকেল আরোহী মুহূর্তেই জড়ো হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করছেন।