জাহানারার অভিযোগে ‘জিরো টলারেন্স’, বললেন বিসিবি সভাপতি

Date:

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, সাবেক নারী দলের অধিনায়ক জাহানারা আলমের করা অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কেউই ছাড় পাবেন না, তা সে দলের ব্যবস্থাপনা সদস্য হোক কিংবা পরিচালক। বিষয়টিতে বোর্ডের অবস্থান হবে ‘জিরো টলারেন্স’।

জাহানারার অভিযোগের পর বোর্ডের কিছু কর্মকর্তাকে ‘ওএসডি’ (অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি) করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে গতকাল এক বোর্ড কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজামউদ্দিন চৌধুরীও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তাদের বিষয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

এরই মধ্যে আরেক নারী ক্রিকেটারও সাক্ষাৎকারে বিসিবি পরিচালক নাজমুল আবেদিন ফাহিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। যেহেতু জাহানারার পাঠানো চিঠিটি ২০২১ সালের, তাই এখন প্রশ্ন উঠছে, তখন কেন সিইও কোনো পদক্ষেপ নেননি?

অনেকে মনে করছেন, যদি নিয়মিত স্টাফদের ওএসডি করা যায়, তাহলে তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পরিচালক বা সিইওকেও একইভাবে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল গতকাল রাজধানীর এক হোটেলে বাংলাদেশ ক্রিকেট কনফারেন্স শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘জিরো টলারেন্স।’

বিসিবির পরিচালক ও সুবিধা কমিটির চেয়ারম্যান শাহনিয়ান তানিম বিষয়টি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘কর্মচারী হোক বা পরিচালক, তদন্ত কমিটিই সিদ্ধান্ত নেবে। সভাপতি বা পরিচালক হিসেবে আমরা আলাদাভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। যদি তদন্ত কমিটি বলে যে চারজন কর্মচারীকে ওএসডি করতে হবে, তাহলে তা করা হবে। আবার যদি কোনো পরিচালকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিও কার্যকর হবে। যেমন বুলবুল ভাই বলেছেন, জিরো টলারেন্স মানে সভাপতি, পরিচালক বা কর্মচারী, সবার জন্য একই নিয়ম।’

জাহানারার অভিযোগ তদন্তে একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের আহ্বান উঠেছে। বোর্ড জানিয়েছে, তদন্ত চলাকালে কমিটি যদি অন্য কোনো বিষয়ও খুঁজে পায়, তবে তা বোর্ডকে সুপারিশ হিসেবে জানাবে।

তবে কমিটিতে বিসিবি পরিচালক রুবাবা দৌলার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে স্বার্থসংঘাতের প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে বুলবুল বলেন, ‘রুবাবা আমাদের একমাত্র নারী পরিচালক। তাই বোর্ডের ভেতর থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য তাকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। যেহেতু এটি ২০২১-২২ সময়কালের বিষয়, আমরা ভেবেছিলাম এটি তখনই সমাধান হয়ে গেছে।’

তদন্ত কমিটির জন্য এখন চ্যালেঞ্জ হলো, সব পক্ষের প্রভাবমুক্ত থেকে নিরপেক্ষভাবে কাজ সম্পন্ন করা এবং দ্রুত রিপোর্ট প্রদান করা।

Popular

More like this
Related

একদিনে পড়ল ১৫ উইকেট, স্পিনারদের নৈপুণ্যে জয়ের পথে ভারত

দক্ষিণ আফ্রিকাকে অল্পতে গুটিয়ে দেওয়ার পর ভারতও পারল না...

সবাই যদি ভাবেন আমরা ৯ মাসে কুইক ফিক্স করে ফেলবো, সেটা তো হয় না: শফিকুল আলম

বাংলাদেশের মানুষ ভালো শাসনতন্ত্র চায়, বাংলাদেশের মানুষ সুশাসন চায়।...

গালফ ফুড ফেয়ারে ৫৫ লাখ ডলারের রপ্তানি ক্রয়াদেশ পেল প্রাণ

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্যপণ্যের মেলা গালফ ফুড ফেয়ারে ৫৫...

‘আমি আমজনতার অভিনেতা, পরিচালকও হতে চাই আমজনতার’

ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত আছেন কয়েক দশক ধরে। হুমায়ূন...