মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জাতীয় মজুত সুরক্ষায় আরও ২ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
আবির ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবাল মার্কেটস থেকে সরাসরি ১ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের মধ্যে দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদার কথা উল্লেখ করে সরকার প্রচলিত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া এড়িয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি বেছে নিয়েছে।
এই সংঘাত বৈশ্বিক তেল পরিবহন রুটে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে, যার মধ্য দিয়ে এশিয়াগামী উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়।
সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি কমাতে সরকার আমদানির বহুমুখী উৎসের দিকে ঝুঁকছে। কারণ প্রচলিত পরিবহন রুটে বিঘ্ন ঘটছে ও মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে দেশজুড়ে জ্বালানি ঘাটতির আশঙ্কা বাড়ছে।
আজ বৈঠকে সরাসরি এক্সন মোবিল কাজাখস্তান ইনকরপোরেটেড (ইএমকেআই) থেকে এক লাখ টন ডিজেল (ইএন-৫৯০, ১০ পিপিএম) কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) কাঠামোর আওতায় ইন্দোনেশিয়ার পিটি বুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন (বিএসপি জাপিন) থেকে আরও ৬০ হাজার টন গ্যাস অয়েল (ডিজেল) আমদানি করা হবে।
এর আগে গত ২৬ মার্চ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দুটি প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার জরুরি ভিত্তিতে ৩ লাখ টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দেয়।
গত ২২ মার্চ সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দিয়ে রাশিয়া থেকে সর্বোচ্চ ৬ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির অনুমতি বা অন্তত দুই মাসের জন্য ছাড় চেয়েছিল বলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিদ্যমান ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভারত থেকে প্রায় ১৭ হাজার টন ডিজেল পেয়েছে। ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রায় ৬ হাজার টন করে আরও দুটি চালান আসার কথা রয়েছে।
কৃষি খাতের জন্য কমিটি রাশিয়ার জেএসসি ‘ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রডিনটর্গ)’ থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে।
এই ক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। এর মোট মূল্য ১৫৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ও প্রতি টনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ ৫৩ হাজার ডলার।
কমিটির সামনে ১০টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ডাল ক্রয় এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের টেলিকম সরঞ্জাম ক্রয়সহ কয়েকটি প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে।