জব্দের পর ১ লাখ পিস ইয়াবা আত্মসাৎ: ১০ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত, বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি

Date:

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এলাকায় চেকপোস্টে জব্দের পর প্রায় এক লাখ পিস ইয়াবা আত্মসাতের অপরাধে ১০ পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।

এর মধ্যে একজন কক্সবাজার জেলা ও নয়জন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সদস্য। তারা হলেন—পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর হোসেন, উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আল আমিন সরকার, এসআই মো. আমির হোসেন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাইফুল আলম, এএসআই জিউর রহমান, এএসআই সাদ্দাম হোসেন, এএসআই এনামুল হক, কনস্টেবল রাশেদুল হাসান, কনস্টেবল উম্মে হাবিবা স্বপ্না ও কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন সৌরভ।

ইয়াবা আত্মসাতের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তাদের বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরীকে এই ঘটনা তদন্তের ভার দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গতকাল রোববার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ তাদের বরখাস্ত করেন।

সৌরভ কক্সবাজার জেলার এক বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের গানম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং আমির ও সাদ্দামকে সম্প্রতি সিএমপির কোতোয়ালী থানায় বদলি করা হয়েছে।

ওয়াহিদুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে কক্সবাজারে জেলা পুলিশের সদস্য সৌরভ ইয়াবা বহনের কথা স্বীকার করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সৌরভ যার কাছ থেকে ইয়াবা নিয়েছিলেন তার নাম উল্লেখ করেছেন, সেটিও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীরের বরখাস্তের বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

বাকলিয়া থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিনের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্তে দেখা গেছে, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তাই তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

সিএমপির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এসআই আল আমিন সরকার ও ওসি আফতাব উদ্দিন একই ব্যাচের ক্যাডেট এবং ঘটনার সময় তারা একসঙ্গে বাকলিয়া থানায় কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় আফতাব দায় এড়াতে পারেন না।’

তার ভাষ্য, ‘সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় আফতাবকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।’

আফতাব বর্তমানে কোতোয়ালী থানায় ওসি হিসেবে কর্মরত আছেন। গত ৬ ডিসেম্বর তাকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসাবে পদায়ন করা হয়।

সিএমপি কমিশনারের সময়কালে ওসি হিসেবে এটি তার টানা চতুর্থ পদায়ন।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত ৮ ডিসেম্বর রাতে এসআই আমির হোসেনের নেতৃত্বে বাকলিয়া থানার একটি টহল দল নগরীর নতুন ব্রিজ এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিল। পুলিশ সদস্যরা বান্দরবান হয়ে সাতকানিয়া এবং কক্সবাজার থেকে আসা যাত্রীবাহী বাসগুলোতে তল্লাশি চালান। কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী দেশ ট্রাভেলসের একটি বাস ভোররাতে তল্লাশির জন্য থামানো হয়।

সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সৌরভকে ব্যাগসহ বাস থেকে নামিয়ে সড়কের পাশে পুলিশ বক্সে নেওয়া হয়। তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য ও একজন বিচারকের গানম্যান পরিচয় দেন। পুলিশ বক্সে তল্লাশির সময় বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ ও সেকেন্ড অফিসার আল আমিনসহ আরও একটি পুলিশ দল সেখানে উপস্থিত হয়।

একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, সৌরভের ব্যাগে এক লাখ পিস ইয়াবা পাওয়া গেলেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর তিনি কুমিল্লায় তার বাড়িতে চলে যান। পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, ৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৩৬ মিনিট থেকে ১০ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সৌরভের মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে এক পর্যায়ে সত্য বের হয়ে আসে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর চট্টগ্রামের একটি আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে এ সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনগুলোর ভিত্তিতে তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালত সিএমপির উপ কমিশনারকে (দক্ষিণ) আগামী ১২ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদ বলেন, ‘আপাতত তাদের সবার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের হবে। আদালতের নির্দেশে আরেকটি কমিটি কাজ করছে।’

Popular

More like this
Related

ঢাবির জহুরুল হক হল থেকে বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের শৌচাগার...

সিলেটে ৩ বাসের সংঘর্ষে নিহত ২

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় তিনটি বাসের সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন।...

‘চুরি দেখে ফেলায়’ নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, পুলিশের সামনে অভিযুক্ত ‘গণপিটুনিতে’ নিহত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে এক যুবককে...

চলছে ‘গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬’

দেশে প্রথমবারের মতো 'গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬' অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মতপ্রকাশ...