চ্যাটজিপিটি: যেসব সাধারণ ভুলে আটকে যাচ্ছেন ব্যবহারকারীরা

Date:

চ্যাটজিপিটি এখন আর কেবল প্রযুক্তিপ্রেমীদের বিষয় নয়। পড়াশোনা, লেখালেখি, অফিসের কাজ, এমনকি দৈনন্দিন প্রশ্নের উত্তর পেতে অনেকেই এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুল ব্যবহার করছেন। 

কিন্তু এটি ব্যবহার করতে গিয়ে বেশিরভাগ মানুষ কিছু সাধারণ ভুল করেন—যেগুলো বুঝতে না পারলে চ্যাটজিপিটি থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা পাওয়া যায় না।

চ্যাটজিপিটি কোনো জাদুকর নয়। এটি মূলত আপনার প্রশ্নের ওপরই নির্ভর করে। নতুন ব্যবহারকারীরা প্রায়ই খুব ছোট বা অস্পষ্ট প্রশ্ন করেন—যেমন, ‘এটা বুঝিয়ে দাও’ বা ‘একটা লেখা দাও।’ 

ফলাফল হিসেবে উত্তরও হয় সাধারণ এবং ভাসা ভাসা।

যত পরিষ্কার করে বলা যায় আপনি কী চান, উত্তরও তত ভালো হয়। 

বিষয়, টোন, দৈর্ঘ্য বা উদ্দেশ্য উল্লেখ করলে আরও ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

অনেকে মনে করেন, একবার প্রশ্ন করলেই নিখুঁত উত্তর পাওয়া উচিত। 

কিন্তু আলোচনার মাধ্যমেই চ্যাটজিপিটি সবচেয়ে ভালো কাজ করে। 

প্রথম উত্তরের পর যদি বলা হয়—আরও সংক্ষিপ্ত করুন, সহজ ভাষায় লিখুন বা উদাহরণ দিন—তাহলে উত্তর ধাপে ধাপে আরও উন্নত হয়।

চ্যাটজিপিটি অনেক তথ্য জানে, কিন্তু সবসময় সেগুলো শতভাগ নির্ভুল নাও হতে পারে। ব্যবহারকারীরা অনেক সময় উত্তর যাচাই না করেই ব্যবহার করেন। চিকিৎসা, আইন বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ক্ষেত্রে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

একটি বিষয় লক্ষ্য রাখা জরুরি, চ্যাটজিপিটি কেবল একটি সহায়ক টুল।

কিছু ব্যবহারকারী চ্যাটজিপিটিকে পুরোদস্তুর লেখক বা চিন্তাবিদ বানিয়ে ফেলেন।

অথচ এটি সবচেয়ে ভালো কাজ করে সহকারী হিসেবে। 

তাই নিজের চিন্তা, অভিজ্ঞতা বা দৃষ্টিভঙ্গি না যোগ করলে লেখাপত্র অনেক সময় যান্ত্রিক দেখায়।

ভালো ফল পেতে হলে মানুষ আর এআই—উভয়েরই একসঙ্গে কাজ করতে হয়।

একই প্রশ্নের উত্তর শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা সাধারণ পাঠকের জন্য এক রকম হওয়া উচিত নয়।

নতুন ব্যবহারকারীরা প্রায়ই বলেতে ভুলে যান—লেখাটা কার জন্য, কী ধরনের ভাষা দরকার।

এই ছোট বিষয়ই অনেক বড় পার্থক্য তৈরি করে দেয়।

চ্যাটজিপিটি দিয়ে তথ্য সাজানো, লেখা গুছানো বা আইডিয়া নেওয়া ভালো। 

কিন্তু একে দিয়ে পরীক্ষায় নকল করা, ভুয়া তথ্য বানানো বা কাউকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলে সেটি প্রযুক্তির অপব্যবহার হয়ে যায়।

ভুল কাজে ভালো টুল ব্যবহার করলে ফলও ভুল হয়।

নতুন ব্যবহারকারীরা অনেক সময় ব্যক্তিগত তথ্য, পাসওয়ার্ড বা গোপন ডকুমেন্ট কপি-পেস্ট করে দেন। এটা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস।

চ্যাটজিপিটি ব্যবহারে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করাই নিরাপদ।

চ্যাটজিপিটি কোনো অলৌকিক সমাধান নয়, আবার ভয় পাওয়ার বিষয়ও নয়। সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে এটি একটি শক্তিশালী সহকারী। 

ব্যবহারকারীরা এই সাধারণ ভুলগুলো এড়িয়ে চলতে পারলে চ্যাটজিপিটি তাদের সময় বাঁচিয়ে কাজ সহজ করতে পারে। এমকি চিন্তার পরিসরও বাড়াতে পারে।

Popular

More like this
Related

একদিনে পড়ল ১৫ উইকেট, স্পিনারদের নৈপুণ্যে জয়ের পথে ভারত

দক্ষিণ আফ্রিকাকে অল্পতে গুটিয়ে দেওয়ার পর ভারতও পারল না...

সবাই যদি ভাবেন আমরা ৯ মাসে কুইক ফিক্স করে ফেলবো, সেটা তো হয় না: শফিকুল আলম

বাংলাদেশের মানুষ ভালো শাসনতন্ত্র চায়, বাংলাদেশের মানুষ সুশাসন চায়।...

গালফ ফুড ফেয়ারে ৫৫ লাখ ডলারের রপ্তানি ক্রয়াদেশ পেল প্রাণ

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্যপণ্যের মেলা গালফ ফুড ফেয়ারে ৫৫...

‘আমি আমজনতার অভিনেতা, পরিচালকও হতে চাই আমজনতার’

ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত আছেন কয়েক দশক ধরে। হুমায়ূন...