কেন জন্মদিন উদযাপন করেন না অভিনেতা ফারুক আহমেদ

Date:

ফারুক আহমেদ দর্শকপ্রিয় অভিনেতা। হুমায়ুন আহমেদের অসংখ্য নাটক ও সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন। পেয়েছেন ব্যাপক পরিচিতি। নাটক-সিনেমার বাইরে ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গেও জড়িত তিনি দীর্ঘদিন ধরে। ঢাকা থিয়েটারের জন্য মঞ্চ নাটক নির্দেশনা দেন কিছুদিন আগে।

আজ ২৫ মার্চ ফারুক আহমেদের জন্মদিন। বিশেষ দিনটিতে  অনেক মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হলেও নিজ থেকে কখনো জন্মদিন উদযাপন করেন না।

কেন জন্মদিন উদযাপন করেন না, সেই গল্প জানতে চাইলে ফারুক আহমেদ বলেন, দেখুন, আমি যে পরিবারে বেড়ে উঠেছি এবং যে সময়ে আমার জন্ম, সেই সময়ে পারিবারিকভাবে জন্মদিন উদযাপনের রীতি ছিল না। আমার আব্বা ছিলেন শিক্ষক।

তিনি বলেন, সত্যি কথা বলতে অনেক পরে এসে যখন অভিনয় করে জনপ্রিতা পেতে শুরু করি, তখন থেক্বে  জন্মদিন এলে মানুষের শুভেচ্ছা পেতে শুরু করি। মানুষের ভালোবাসার প্রকাশ দেখতে পাই। আবার, স্ত্রী বিশেষ দিনে শুভেচ্ছা জানায়। আমার মেয়েও জানায়। কিন্তু, উৎসব করে কখনো জন্মদিন  উদযাপন করিনি।

ফারুক আহমেদ আরও বলেন, তবে, আজকের জন্মদিনে অনেক মানুষের শুভেচ্ছা পাচ্ছি। এটা তো না করতে পারি না। কেউ সম্মান জানালে তা নিতে হয়। আমার মেয়ে বলেছে হ্যাপি বার্থ ডে। আমার স্ত্রী শুভেচ্ছা জানিয়েছে। প্রতিটি জন্মদিনে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা পাই।

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস নিয়ে এই অভিনেতা বলেন, সত্যি কথা বলতে ১২-১৩ বছর ধরে এই দিনে গণহত্যা দিবস মাথায় রেখেই জন্মদিন নিয়ে চুপচাপ থাকি। দিনটি উদযাপন করি না। করতে ইচ্ছে করে না। কেননা, ২৫ মার্চ নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হামলা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে। দিনটির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই কাজটি করি।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের স্মৃতি মনে করে ফারুক আহমেদ বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা মোহাম্মদপুরে থাকতাম, একটি কোয়ার্টারে। আমার বাবা শিক্ষক ছিলেন। ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত মোহাম্মদপুরে ছিলাম। সেই সময় বিহারিরা রাতের বেলা বড় বড় দা নিয়ে পাহারা দিত। আমার আব্বার স্কুলটি উর্দু ভাষার স্কুল করতে চেয়েছিল। কিন্ত পারেনি বাঙালিদের জন্য। এই রাগ ওদের ছিল। তাই রাতেরবেলা দা নিয়ে ঘুরত। আমরা বাসার ভেতরে ভয়ে থাকতাম।

তিনি বলেন, এমন অবস্থা দেখে আব্বা আমাদের পুরান ঢাকার কাগজিটোলা পাঠিয়ে দেন মার্চ মাসের কোনো একদিন। উদ্দেশ্য ছিল ২৫ মার্চ আমরা পুরান ঢাকা দিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যাব।  কিন্তু, ২৫ মার্চ রাত চলে এলো। আমরা রাত ১২টার পর প্রথমে একটি গুলির শব্দ শুনলাম। এরপর খই ফোটার মতো গুলির শব্দ হতে লাগল। সারা রাত গুলির  শব্দ শুনি। খাটের নিচে লুকিয়ে ছিলাম।

ফারুক আহমেদ বলেন, তারপর ২৬ মার্চ এলো, আমরা সারা দিন বাসায় ছিলাম। ২৭ মার্চ এক ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হয়েছিল। তখন আমরা নদী পার হয়ে কেরানিগঞ্জ চলে যাই। ওখান থেকে বিশ মাইল দূরে আমাদের বাড়ি। অথচ নৌকা করে, হেঁটে, বাড়িতে যেতে আড়াই দিন লেগেছিল। এর মধ্যে একটা বাঙ্গি ছাড়া কিছুই খাওয়া হয়নি।

ফারুক আহমেদ বলেন, ওইরকম একটা সময় আমি নিজ চোখে দেখেছি। বহু বছর পর আমার ভেতরে সেইসব কথা মনে পড়ে, আমাকে ভাবায়, নাড়া দেয়। সেজন্য সিদ্ধান্ত নিই জন্মদিন উদযাপন করব না। কেননা, দিনটি গণহত্যার।

Popular

More like this
Related

জঁ ফঁতেঁ: ধার করা বুটে ১৩ গোলের অস্পৃশ্য রেকর্ড

১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপ। সেই সময়ের ফ্রান্স দল ছিল...

২৫ মার্চ স্মরণে প্রাচ্যনাটের ‘লালযাত্রা’

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত, বাংলাদেশের জনস্মৃতিতে ‘কালরাত্রি’ হিসেবে...

দৌলতদিয়ায় ফেরিতে উঠতে গিয়ে বাস নদীতে, হতাহতের শঙ্কা

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীবাহী একটি বাস...

মার্কিন ৮২ এয়ারবোর্ন ডিভিশনের সক্ষমতা কী, কেন ইরান পাঠানোর পরিকল্পনা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ যখন চতুর্থ সপ্তাহে...