কেউ ঝগড়া করতে এলে ছেড়ে দেবো না: জামায়াত আমির

Date:

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘একটি দল একদিকে দিচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, অন্যদিকে দিচ্ছে মা-বোনদের গায়ে হাত। যারা মাকে অসম্মানিত করছেন, তাদেরকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য আমি আহ্বান জানাই। জনগণের রায়ে আস্থা রাখুন। অতীতে যারা আস্থা রাখেনি তাদের পরিণতি ভালো হয়নি।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘এখন মাঘ মাস। এখনই যদি মাথা এত গরম থাকে, তাহলে চৈত্র এলে কী করবেন?’

আজ মঙ্গলবার বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা কারও পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া বাঁধাতে চাই না। তবে কেউ আসলে আমরা ছেড়ে দেবো না।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রত্যেক নর-নারীর ভোটের অধিকারের পাহারাদার হবেন। ভোট যার যেখানে ইচ্ছা সেখানে দেবে। কিন্তু আমরা বাক্স পর্যন্ত ভোটারকে পৌঁছে দিতে চাই। ১৩ ফেব্রুয়ারি আমার একটি অভিশাপমুক্ত বাংলাদেশ চাই।’ 

শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণভোটে ”হ্যাঁ” ভোট মানে হচ্ছে—আজাদি আর না ভোট মানে হচ্ছে গোলামি। আগামী ১২ তারিখে প্রথম ভোট দেবেন ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে, পরের ভোট দেবেন ইনসাফের পক্ষে।’

যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা লড়াই করেছ, তোমাদের মোবারক বাদ। কিন্তু আমরা তোমাদের ওপর বেকার ভাতা দিয়ে অপমান করতে চাই না। আমরা তোমাদের হাতকে কারিগরের হাতে পরিণত করতে চাই।’ 

তিনি আরও বলেন, পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুশিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা রায় দিয়ে বলে দিয়েছে— আমরা ইনসাফের পক্ষে, নতুন বাংলাদেশের পক্ষে। আমরা এখন ঐক্যের পক্ষে, বিভক্তির পক্ষে নই।’

জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে সবাইকে আশ্বস্ত করে বলেছিলাম—আমাদের ওপর যাই হোক না কেন, আমরা শান্ত থাকবো, ধৈর্য ধরবো। আমরা দেশবাসীর জান-মাল ও ইজ্জত রক্ষায় পাহারাদারের ভূমিকা পালন করব। আমরা আমাদের কথা রেখেছি।’ 

‘আমরা বলেছিলাম—যারা আমাদের ক্ষতি করেছে, তাদের ওপর কোনো প্রতিশোধ নেবো না, মামলা দিয়ে হয়রানি করবো না। আমরা সে কথা রেখেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশ শুধু মুসলমানের নয়, অবশ্য মুসলমানরা এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ কিন্তু, মিলেমিশে ফুলের বাগান। অন্য সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে বসবাস করেন। কোনো দুর্বৃত্ত তাদের দিকে তাকাতে পারবে না। কোনো হাত তাদের দিকে বাড়াতে পারবে না। আমরা আশা করেছিলাম—রাজনৈতিক দলগুলো সেখানে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে। কিন্তু আফসোস, সবাই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারে নাই। আজ তাহলে দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল এই দেশের মানুষ, মাটি, সম্পদ, ইজ্জত কার কাছে নিরাপদ।’

এর আগে যশোরে ঈদগাহ মাঠে একটি নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশে আর পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি থাকবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে দল নিজেদের কর্মীদের সামাল দিতে পারে না, তারা দেশও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আগে নিজেদের দলের মধ্যে শৃঙ্খলা ফেরান। এ ক্ষেত্রে যদি আমাদের কোনো সহযোগিতা লাগে, তাহলে আমরা দেবো। আমরা ন্যায় ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে।’

Popular

More like this
Related

বিজয় যেমন গণতন্ত্রের অংশ, তেমনি পরাজয়ও: প্রধান উপদেষ্টা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা...

পঞ্চগড়ে বিএনপি ও ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে আহত ৮

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াত ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১...

সরকারের শেষ দিনে যেমন ছিল সচিবালয়

বহুল আলোচিত অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ কার্যদিবস পার হয়েছে আজ...

রাজা যায় রাজা আসে, মানুষের ভাগ্য কেন বদলায় না?

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও সাধারণ মানুষের চাহিদাগুলো একই রয়ে...