ফ্রান্সের বিখ্যাত কান চলচ্চিত্র উৎসবে বিচারকদের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দক্ষিণ কোরীয় ফিল্ম নির্মাতা পার্ক চ্যান-উক। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম নাগরিক হিসেবে তিনি এই বিরল সম্মান লাভ করেছেন।
আগামী মে মাসে কান উৎসবের ৭৯তম আসরের সভাপতিত্ব করবেন পার্ক চ্যান-উক।
আজ বৃহস্পতিবার চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজকদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
পরিচালক পার্ক চ্যান-উক এর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে আছে ওল্ডবয় (২০০৩) সিনেমাটি।
সভাপতি হিসেবে তিনি এ বছরের সেরা চলচ্চিত্রকে পাম ডি’ওর বা গোল্ডেন পাম নামে পরিচিত সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ডটি তুলে দেবেন।
গত বছর এই সম্মান জেতেন ইরানের চিত্রনির্মাতা জাফর পানাহি। ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট’ সিনেমার জন্য এই অ্যাওয়ার্ড পান তিনি।
এমন সময় পার্ক চ্যান-উক বিচারকদের সভাপতি নির্বাচন হলেন, যখন দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতি বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পাচ্ছে।
২০১৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় চিত্রনির্মাতা বং জুন-হোর ‘প্যারাসাইট’ সিনেমাটি গোল্ডেন পাম ও অস্কার জিতে নেয়।
এ ছাড়া, স্কুইড গেম ও কে পপ ডেমন হান্টার-এর মতো তুমুল জনপ্রিয় টিভি সিরিজ, বিটিএস ও ব্ল্যাকপিংকের মতো জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড—এ যেন দক্ষিণ কোরীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন চলছে।
এ ধারায় সর্বশেষ সহযোজন পার্ক চ্যান-উকের এই স্বীকৃতি।
সভাপতির পদ পেয়ে পার্ক (৬২) এক বিবৃতিতে জানান, ‘ঘৃণা ও বিভাজনের এই সময়ে একটি সিনেমা হলে যেয়ে একই সময়ে, একত্রিত হয়ে সিনেমা দেখতে যাওয়ার সহজাত ঘটনাও একটি আবেগঘন, সার্বজনীন একাত্মবোধের অনুভূতি এনে দিতে পারে।’
চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজকরা পার্কের সিনেমাগুলোকে, ‘বর্ণনামূলক, চৌকস ও মানবিক’ আখ্যা দেন।
বং জুন হো সহ দক্ষিণ কোরিয়ার অসংখ্য চিত্রনির্মাতা পার্ক চ্যান-উকের কাজে ‘অনুপ্রেরণা’ খুঁজে পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
২০০৪ সালে কান উৎসবের সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ডটি জিতে নেয় পার্কের ওল্ডবয়।
তার সর্বশেষ কাজ ‘নো আদার চয়েজ (২০২৫)’। ওই সিনেমাটি ডনাল্ড ওয়েস্টলেকের ১৯৯৭ সালের উপন্যাস ‘দ্য এক্স’ এর কাহিনীর ভিত্তিতে নির্মিত। ওই সিনেমায় এক বেকার মানুষের ‘প্রতিদ্বন্দ্বীদের খুন করার’ সিদ্ধান্তের চমকপ্রদ কাহিনী ফুটে উঠেছে।
এতে স্কুইড গেম খ্যাত অভিনেতা লি বিইউং-হান ও ‘ক্র্যাশ ল্যান্ডিং অন ইউ’ খ্যাত অভিনেত্রী সন ইয়ে-জিন মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
সিউলের সোগ্যাং বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিষয়ে পড়ালেখা করেছেন পার্ক।