চ্যাম্পিয়নস লিগের মঞ্চে প্রায় অসম্ভব এক প্রত্যাবর্তনের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে থেমে গিয়েছে জুভেন্তাস। দশজনের দল নিয়েও দুর্দান্ত লড়াই করে শেষ পর্যন্ত গ্যালাতাসারাইয়ের কাছে দুই লেগ মিলিয়ে ৭-৫ গোলের ব্যবধানে বিদায় নিতে হলো ইতালির ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটিকে। আর এই নাটকীয় পরাজয়ের পর অধিনায়ক ম্যানুয়েল লোকাতেল্লির কণ্ঠে ফুটে উঠল নিঃশব্দ যন্ত্রণার আর্তি।
ইস্তাম্বুলে প্রথম লেগে হতাশাজনক পারফরম্যান্সে ৫-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল জুভেন্তাস। ফলে ফিরতি লেগে শেষ ষোলোতে উঠতে হলে প্রয়োজন ছিল প্রায় অলৌকিক কিছু। অনেকেই যেখানে তাদের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, সেখানে মাঠে নেমে একেবারে ভিন্ন এক গল্প লিখতে শুরু করে তুরিনের দলটি।
দশজনের দল নিয়েও দুর্দান্ত লড়াইয়ে গোল করেন লোকাতেল্লি, ফেদেরিকো গাত্তি এবং ওয়েস্টন ম্যাককেনি। গ্যালারির বজ্রধ্বনির মধ্যে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে, যেখানে জুভেন্টাসের পুনর্জাগরণ যেন পূর্ণতার অপেক্ষায়।
কিন্তু ভাগ্য আর বাস্তবতার নির্মমতা সেখানেই এসে দাঁড়ায় দেয়াল হয়ে। অতিরিক্ত সময়ে ভিক্টর ওশিমেন এবং বারিস ইলমাজের গোল জুভেন্তাসের স্বপ্ন ভেঙে দেয়। অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের পরও শেষ পর্যন্ত বিদায়ই সঙ্গী হয় ইতালিয়ানদের।
ম্যাচ শেষে আবেগ চেপে রাখতে পারেননি লোকাতেল্লি। “আমরা এই ম্যাচে আমাদের আত্মা ঢেলে দিয়েছি। যা ছিল সবই দিয়েছি,” বলতে গিয়ে তার কণ্ঠে ছিল হতাশা আর গর্বের মিশেল। সাম্প্রতিক পরাজয়গুলো সত্ত্বেও দলের উন্নতির ইঙ্গিতও খুঁজে পান তিনি, “কোচের সঙ্গে আমরা সঠিক পথেই আছি, এটা আজকের পারফরম্যান্সেই স্পষ্ট।”
পরাজয়ের পরও সমর্থকদের করতালিতে বিদায় নেয় জুভেন্তাস। এই লড়াকু পারফরম্যান্স আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে দলটিকে নতুন আত্মবিশ্বাস দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে সিরি আ’তে পঞ্চম স্থানে রয়েছে জুভেন্তাস, চতুর্থ স্থানে থাকা এএস রোমা থেকে তারা পিছিয়ে চার পয়েন্টে। রোববার রোমার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি তাই তাদের জন্য আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ক্লাব কিংবদন্তি জিওর্জিনি কিয়েলিনি, যিনি এখন ক্লাবের কর্মকর্তা, এই ম্যাচকে দেখছেন নতুন শুরুর প্রেরণা হিসেবে। “আজকের পারফরম্যান্স আমাদের মৌসুমের বাকি পথের ভিত্তি হওয়া উচিত,” বলেছেন তিনি। তবুও তার কণ্ঠেও ছিল আক্ষেপ, “এত কিছুর পরও আমরা হতাশ, কারণ আমরা আরও বেশি আশা করেছিলাম।”