কক্সবাজারে গ্যাস স্টেশনে বিস্ফোরণ: ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

Date:

কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় এলপিজি গ্যাস স্টেশনে বিস্ফোরণে আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আজ বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ছয়জনের অবস্থাই সংকটাপন্ন, কারণ তাদের সবার শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসকেরা প্রশাসনকে জানিয়েছেন, শ্বাসতন্ত্রে সামান্য দগ্ধ হলেও তা প্রাণঘাতী হতে পারে। প্রশাসন বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

চমেকে ভর্তি হওয়া দগ্ধরা হলেন—আবদুর রহিম (৩২), সিরাজ (৩০), আবু তাহের (৪০), আবুল কাশেম (২৭), সাকিব (৩০) ও মুতাব্বের (৪০)।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাদের শরীরের ২০ শতাংশ থেকে ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত দগ্ধ হয়েছে।

চমেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের রেজিস্ট্রার ডা. আশফাকুল আসিফ ডেইলি স্টারকে বলেন, তাহের, সিরাজ ও রহিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আজ বিকেলে তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সবার শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনো কাউকে ঝুঁকিমুক্ত বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা, গ্যাস ‘লোড-আনলোড’ করার সময় ত্রুটির কারণেই বিস্ফোরণটি ঘটেছে।

গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে কলাতলীর প্রবেশমুখে কক্সবাজার এলপিজি স্টেশনে এ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। তাদের মধ্যে ছয়জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো জানা যায়নি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লোডিং ও আনলোডিংয়ে ত্রুটির কারণে ঘটনাটি ঘটতে পারে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন পেলে সঠিক কারণ জানা যাবে।

তিনি আরও বলেন, গ্যাস স্টেশনটির কোনো অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা বা ফায়ার সার্টিফিকেট ছিল না, যা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স থেকে নিতে হয়।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. এ মান্নান ডেইলি স্টারকে বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা পুলিশ ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

 

কমিটির প্রধান শাহিদুল আলম জানান, তারা কাজ শুরু করেছেন এবং পাম্প মালিকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাকে সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র দেখাতে বলা হয়েছে।

কলাতলী থেকে লিংক রোড পর্যন্ত তিন কিলোমিটারের মধ্যে থাকা চারটি ফিলিং স্টেশন সরকারি নীতিমালা মানছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্তে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

আজ সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পুরো স্টেশন পুড়ে কালো হয়ে গেছে। আশপাশের গাছপালাও দগ্ধ হয়েছে। পেট্রোল পাম্পের পেছনে থাকা একটি বাড়ির আসবাব সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। পেছনের ছোট একটি টিলা কেটে নির্মিত আরেকটি বাড়িও পুড়ে গেছে। দুটি বাড়ির বাসিন্দাদের বাইরে বসে বিলাপ করতে দেখা যায়।

 

প্রথম বাড়ির বাসিন্দা সিরাজের স্ত্রী ইসলাম বেগম বলেন, সন্ধ্যার আগেই গ্যাস স্টেশনে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও গ্যাস লিকেজ বন্ধ করতে পারেনি। পরে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে এবং রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে।

তিনি বলেন, ছেলে, নাতি-নাতনি ও পুত্রবধূকে নিয়ে আমি ঘর ছেড়ে পালাই।

তিনি আরও বলেন, কীভাবে বেঁচে গেছি, ভাবলে এখনো বুক কেঁপে ওঠে। আমাদের সব টাকা-পয়সা ও আসবাব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন থাকার জায়গা নেই।

এলপিজি ফিলিং স্টেশনটির মালিক কক্সবাজারের রামু উপজেলার ব্যবসায়ী ওয়ান এন আলম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ফিলিং স্টেশন পরিচালনার অনুমতি আমার আছে। 

Popular

More like this
Related

কালিয়াকৈরে ম্যানহোলে পড়ে কিশোরের মৃত্যু

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের...

সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে আরও রদবদল

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল করা হয়েছে।...

জিম্বাবুয়েকে গুঁড়িয়ে টিকে রইল ভারত, সেমিতে দ.আফ্রিকা

অভিষেক শর্মা, হার্দিক পান্ডিয়াদের তাণ্ডবে ভারত রেকর্ড পুঁজি গড়ার...

ভূমি অফিসে সেবা ফি সাইনবোর্ডে টানানোর নির্দেশ

দেশের সব ভূমি অফিসে নামজারি, খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপের...