ঈদযাত্রার আন্তঃনগর ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু করেছে সরকার। জনসাধারণের গুরুত্বপূর্ণ স্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট দেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার ঢাকা–চট্টগ্রাম–কক্সবাজার আন্তঃনগর ট্রেনে প্রথমবার এই সেবার পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হয়। এতে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক এবং আধুনিক পাওয়ার ওভার ইথারনেট (পিওই) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
পাওয়ার ওভার ইথারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে একই ইথারনেট কেবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ এবং ডেটা উভয়ই একসঙ্গে সরবরাহ করা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ গতকাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, খুব শিগগিরই আরও তিনটি রুটে এই ফ্রি ইন্টারনেট সেবা চালু করা হবে। সেগুলো হলো—ঢাকা–রাজশাহী, ঢাকা–সিলেট, ঢাকা–খুলনা।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঈদের আগেই নির্বাচিত কিছু স্থানে ফ্রি ওয়াইফাই চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এই সেবাটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশে স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড। এটি বাংলাদেশে স্টারলিংকের অনুমোদিত বিক্রয় প্রতিনিধি।
রেহান আসাদ বলেন, ঢাকা–চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে পরীক্ষামূলক ব্যবহারে ভালো গতির ইন্টারনেট পাওয়া গেছে।
দেখা গেছে—ডাউনলোড স্পিড প্রায় ৮ থেকে ৮৮ এমবিপিএস, আপলোড স্পিড প্রায় ১৩ থেকে ৪৭ এমবিপিএস। ভ্রমণের সময় ল্যাটেন্সি ছিল প্রায় ২৩ থেকে ৪৭ মিলি সেকেন্ড।
একই পরীক্ষায় স্টারলিংক অ্যাপ ব্যবহার করে সর্বোচ্চ প্রায় ১৩৬ এমবিপিএস ডাউনলোড, ৩১ এমবিপিএস আপলোড এবং প্রায় ৩১ মিলি সেকেন্ড ল্যাটেন্সি পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ঈদের আগেই কয়েকটি বিমানবন্দর ও বড় রেলস্টেশনে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নির্ভরযোগ্য ওয়াইফাই চালুর পরিকল্পনা আছে। বাকি স্থানগুলোতে ঈদের পর ধাপে ধাপে এই সেবা চালু করা হবে।
দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঈদের পর উন্নত ওয়াইফাই সেবা চালুর পরিকল্পনা আছে সরকারের।