ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে ‘বিপর্যয়’ নেমে আসতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন সৌদি আরবের জাতীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি আরামকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আমিন এইচ নাসের।
আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন বলে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে।
ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা চালানোর পর ইরান পাল্টা হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শুরু হয় সংঘাত। এতে বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। আগে এই পথ দিয়ে দিনে গড়ে ১৫৩টি জাহাজ চলত, যা এখন কমে ১০-১৫টিতে দাঁড়িয়েছে।
জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার এক পর্যায়ে তেলের দাম বাড়তে বাড়তে গতকাল তা প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আরামকোর রাস তানুরা রিফাইনারিতে গত ২ মার্চ ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যায়। নিরাপত্তার খাতিরে আরামকো সাময়িকভাবে এই রিফাইনারির উৎপাদন বন্ধ করে দেয়।
আরামকো সিইও বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্ন হতে থাকলে বিশ্বের তেলের বাজারের জন্য বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হবে।’
এতে বিশ্ব অর্থনীতি ভয়াবহভাবে বিপর্যস্ত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল শুরু হওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি বলেও মন্তব্য করেন আমিন এইচ নাসের।
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে পারস্য উপসাগর থেকে এক লিটার তেলও রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হয়। এই পথ দিয়ে রপ্তানি হওয়া তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই যায় এশিয়ার দেশগুলোতে।