লন্ডনভিত্তিক টিভি চ্যানেল ও গণমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের কার্যক্রমে আপত্তি তুলেছে ইরানের সেনাবাহিনী। ওই প্রতিষ্ঠানটিকে কেউ ‘সহযোগিতা’ করলে তারাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবেন বলে হুমকি দিয়েছে খাতাম আল-আম্বিয়ার সদরদপ্তর।
আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
খাতাম আল-আম্বিয়া হলো ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের অধীন একটি শাখা। এর দায়িত্ব বিভিন্ন ইরানি সামরিক ইউনিটকে নিয়ে পরিচালিত অভিযানের পরিকল্পনা ও সমন্বয় করা।
খাতাম আল-আম্বিয়ার পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ওই জায়নবাদী আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এ অঞ্চলের কয়েকটি দেশের স্যাটেলাইট সক্ষমতা ও গণমাধ্যম অবকাঠামো ব্যবহার করছে। তারা অস্থিরতা সৃষ্টি ও মিথ্যা বয়ান তৈরি করে অপরাধী যুক্তরাষ্ট্র ও (ইসরায়েলের) জায়নবাদী শাসকদের লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করছে।’
‘আমরা হুঁশিয়ারি দিচ্ছি। যদি আপনারা এই অশুভ ও শয়তানিতে ভরপুর নেটওয়ার্ককে সহায়তা অব্যাহত রাখেন, তাহলে সহযোগীদের ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুর অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’
তবে ইরান ইন্টারন্যাশনাল ‘এ অঞ্চলের’ কোন দেশে বা অবস্থানে থাকা অবকাঠামো ব্যবহার করছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
২০২২ সালে ইরান ইন্টারন্যাশনালকে ‘জঙ্গি সংগঠন’ আখ্যা দেয় তেহরান। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় ওই গণমাধ্যমটিকে ‘ইসরায়েলের দোসর’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। তাদের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততাকে ‘শাস্তিযোগ্য অপরাধ’ বলে মনে করছে তেহরান।
গতকাল রোববার ইরান জানায়, তারা ওই সংবাদমাধ্যমকে ছবি ও তথ্য দিয়ে সহযোগিতার অভিযোগে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
টানা ১৫ দিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানও প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
‘যুদ্ধের’ শুরুতেই ওই দুই দেশের যুগপৎ হামলায় প্রাণ হারান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
সেদিন থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।
সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ যেসব দেশে মার্কিন সেনা মোতায়েন আছে, মূলত সেসব দেশের বিরুদ্ধেই হামলা চালাচ্ছে ইরান।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম হারেৎজ-এর হিসাব অনুযায়ী, গত ১৩ মার্চ অবধি ইসরায়েল লক্ষ্য করে ২৫০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। অর্থাৎ গড়ে প্রায় প্রতিদিন ১৮টি করে ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের আকাশে দেখা গেছে।