ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী জার্মান গালুশচেঙ্কো দেশ ছাড়তে গিয়ে আটক হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিবিসির খবরে এমনটি বলা হয়েছে।
গত বছর বহুল আলোচিত এক দুর্নীতিতে নাম প্রকাশ্যে আসার পর তাকে মন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি ট্রেন থেকে আটক হন বলে জানা গেছে। তবে তার গন্তব্য কোথায় ছিল তা জানা যায়নি।
ইউক্রেনে গত নভেম্বরে প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড) আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় একাধিক সরকারি কর্মকর্তা বা প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম সামনে আসে। তাদের মধ্যেই একজন তিনি।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের আগেই বিপুল সমর্থনে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রশাসনকে ওই আর্থিক কেলেঙ্কারি গভীর সংকটে ফেলে দেয়।
আর্থিক কেলেঙ্কারির জেরে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নির্বাচন আয়োজনের চাপ বেড়েছে। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।
রোববার এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের জাতীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরো (নাবু) জানায়, ‘মিডাস’ মামলার অংশ হিসেবে সাবেক জ্বালানিমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সীমান্ত অতিক্রমের সময় আটক করা হয়েছে।
বিবৃতিতে গালুশচেঙ্কোর নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তবে ইউক্রেনের একাধিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম তাকে এই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
গালুশচেঙ্কো স্বল্প সময়ের জন্য বিচারমন্ত্রীও ছিলেন। এর আগে তিনি তিন বছর জ্বালানিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। গত নভেম্বরে প্রেসিডেন্টের নির্দেশে তিনি পদত্যাগ করেন। তার উত্তরসূরি স্বিতলানা হ্রিনচুকও কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর পদ ছাড়েন।
আটকের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ইউক্রেনের জাতীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরো। সংস্থাটি বলছে, সময়মতো হালনাগাদ তথ্য দেওয়া হবে।
রেডিও ফ্রি ইউরোপ জানিয়েছে, সীমান্তরক্ষীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যদি সাবেক মন্ত্রী গালুশচেঙ্কো দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেন, তারা যেন তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানায়। আটকের পর বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে রাজধানী কিয়েভে নিয়ে যাওয়া হয়।
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সদস্য দেশ ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির সমস্যায় জর্জরিত। জাতীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরো ও বিশেষায়িত প্রসিকিউটর অফিস গত এক দশক ধরে কাজ করলেও সেই সমস্যা পুরোপুরি কাটেনি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ইউক্রেনের যোগদানের জন্য দুর্নীতি দমনকে অন্যতম মূল শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।