আগের তদন্ত কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Date:

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে গঠিত তদন্ত কমিশনের সুপারিশগুলোই সরকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। 

আজ বুধবার বনানী কবরস্থানে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পুরো রিপোর্টটি না দেখে এর আগে দেওয়া তার একটি বক্তব্য তিনি সংশোধন করতে চান।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, ২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনঃতদন্তের জন্য সরকার একটি নতুন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আজ তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে এ (অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া) রিপোর্টটি না পড়েই আমি কিছু কথা বলেছি, যেগুলো আজকে সংশোধন করতে চাই।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আগে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠিত হয়েছে। সেদিন কথা বলার প্রয়োজনে তিনি সেই প্রতিবেদনের ওপর কেবল চোখ বুলিয়েছিলেন। 

ওই প্রতিবেদনে প্রায় ৭০ জনের বিষয়ে সুপারিশ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুপারিশের সঙ্গে যুক্ত অনেক বিষয় এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আমরা এই বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব। অন্যান্য সুপারিশগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।’

মন্ত্রী বলেন, সরকার শহীদ পরিবার এবং জাতিকে আশ্বস্ত করতে চায় যে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার হবে এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা হবে। যাতে এই জাতীয় কোনো ঘটনা আমাদেরকে জাতীয় জীবনে আর না দেখতে হয়। 

তিনি বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার একটা চেষ্টা ছিল। এ কাজটা তারাই করতে পারে, যারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না।’

তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে পরে বিস্তারিত জানাবেন।

তবে দলের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তি ও শক্তিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের আমরা তদন্ত দাবি করছি।’

তিনি বলেন, ‘২৫ ফেব্রুয়ারি দিনটি আমাদের জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জার, কলঙ্কজনক একটি অধ্যায় বলে আমরা মনে করি। এই দিনটিকে আমরা সবচেয়ে কলঙ্কজনক এ জন্য মনে করি, এই দিনে চক্রান্ত হয়েছিল, প্রচেষ্টা হয়েছিল বাংলাদেশের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়ার। চৌকস ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং একইসঙ্গে বাংলাদেশের মনোবল ভেঙে দেওয়ার একটা গভীর চক্রান্ত হয়েছিল।’

‘আল্লাহর অশেষ রহমতে বাংলাদেশের জনগণ তাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং বিগত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আজকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুসংহত ও গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার একটা বড় সুযোগ পেয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

 

Popular

More like this
Related

প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন: সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর অফিস আদেশ নিয়ে বিতর্ক

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল...

কচুয়ায় গ্যাস লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ৩

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার হোশেনপুরে একটি দোচালা টিনের ঘরে গ্যাস...

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান সম্পাদক পরিষদের

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান...

পটুয়াখালীতে মা কুকুর হত্যার অভিযোগ, দিশেহারা ৬ ছানা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মা কুকুরকে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনা...