ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ফর্মে ফিরতে লড়াই করা ওপেনার অভিষেক শর্মার পাশে দাঁড়িয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তিনি অভিষেককে তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক খেলা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ সূর্যকুমার মনে করেন, তাদের দলের যে ব্যাটিং শক্তি আছে, তা যে কোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম।
আগামীকাল রোববার আহমেদাবাদে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে এই দুই দল পরস্পরকে মোকাবিলা করবে। ম্যাচটি মূলত দুই বছর আগের আসরের ফাইনালের পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে। সেই শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
উভয় দলই নিজে নিজ গ্রুপে সব ম্যাচ জিতে টুর্নামেন্টে অপরাজিত রয়েছে। তবে এইডেন মার্করামের নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকাকে সব বিভাগেই শক্তিশালী মনে হলেও শিরোপাধারী ভারতের ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতার অভাব দেখা গেছে। বিশেষ করে আইসিসি টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা অভিষেক তিন ম্যাচ খেলে সবকটিতেই শূন্য রানে আউট হয়েছেন।
তবে ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে অভিষেককে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সূর্যকুমার হাসিমুখে বলেন, ‘অভিষেকের ফর্ম নিয়ে যারা চিন্তিত, আমি বরং তাদের নিয়েই চিন্তিত। আমি সেই দলগুলোর কথা ভাবছি, যাদের বিপক্ষে ও জ্বলে উঠবে। কারণ এখন পর্যন্ত ও রান পায়নি। যখন ও রান করতে শুরু করবে, তখন বুঝবেন পরিস্থিতি কেমন হয়।’
নিজেদের ব্যাটিংয়ের গভীরতা বোঝাতে ভারতীয় অধিনায়ক যোগ করেন, ‘এটি একটি দলগত খেলা, তাই এমনটা হতেই পারে। দল চায়, ও তার নিজের মতো খেলুক। ও যদি দ্রুত রান তুলতে পারে তবে ভালো, অন্যথায় আমরা (বাকিরা) সেটি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য আছি। গত বছর ও আমাদের জন্য যে কাজ করেছিল, এখন আমরা ওর জন্য তা করব।’
বাঁহাতি অভিষেক ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পা রাখার পর থেকে অনেকবার ব্যাটিংয়ে বিধ্বংসী শুরু এনে দিয়েছেন। ২০ দল নিয়ে চলমান এই টুর্নামেন্টের আগে বড় দলীয় সংগ্রহের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। এমনকি ঘরের মাঠে ভারত ৩০০ রান পার করবে, এমন ধারণাও ছিল। কিন্তু মাঠের পাফরম্যান্সে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন বাস্তবতা।
ওমানের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের ২৩৫ রান এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ পুঁজি। আর ভারত তাদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ পেয়েছে নামিবিয়ার বিপক্ষে (২০৯ রান)।
এই প্রসঙ্গে ডানহাতি ব্যাটার সূর্যকুমার বলেন, ‘আমরা ইনিংসের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলার চেষ্টা করছি। কারণ টি-টোয়েন্টিতে এখন সবাই সবার পরিকল্পনা জানে। তবে আমরা এমন দল হতে চাই না, যারা পরিস্থিতির বিচার না করে শুধুই পিটিয়ে খেলে। এমন পরিস্থিতি আসতে পারে যেখানে দ্রুত ২-৩টি উইকেট পড়ে গেল। তখন আমাদের বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিং করতে হবে ১২ থেকে ১৫ ওভারের মধ্যে। আমাদের হাতে যথেষ্ট পাওয়ার হিটার আছে। তাই শক্ত ভিত পেলে শেষ পাঁচ ওভারে ৬০-৭০ রান অনায়াসেই তোলা যায়।’
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের আসরে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছে ভারত। তারা এখন পর্যন্ত টানা ১২ ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে।